ওয়াসিম চত্বর থেকে বাঁশেরকেল্লা—আবর্জনা ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শহীদ ওয়াসিম চত্বর থেকে বাঁশেরকেল্লা-সংলগ্ন এলাকা শিক্ষার্থীদের অন্যতম অবসর কাটানোর স্থান। এসব স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, খোলা ড্রেন, ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ময়লা-আবর্জনা, খোলা ড্রেন ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ তারা। এসব জায়গা দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকের পাশের শহীদ ওয়াসিম চত্বর থেকে দ্বিতীয় গেট-সংলগ্ন বাঁশেরকেল্লা পর্যন্ত এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত বসার স্থানগুলোর আশপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। খোলা ড্রেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উঁচু-নিচু ইটের অংশ, পাশের ডাস্টবিন এবং ওয়াশরুম থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে এলাকাটির পরিবেশ অস্বস্তিকর।
এ বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী রিমা আক্তার বলেন, ‘ওয়াসিম চত্বরে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু চত্বরের পাশের অপরিষ্কার পরিবেশ, খোলা ড্রেন, ডাস্টবিন ও ওয়াশরুমের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। আমরা চাই কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করুক।’
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মুয়াজ ইবনে জামান বলেন, ‘শহীদ ওয়াসিম চত্বর থেকে বাঁশেরকেল্লা পর্যন্ত এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবসর সময় কাটান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে, ড্রেন অপরিষ্কার থাকে এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।’
আরও পড়ুন: রাবিতে ‘হল দখল’ নিয়ে ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
তিনি আরও বলেন, এলাকাটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ড্রেন সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারবেন।
এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলেয়া আক্তার বলেন, শহীদ ওয়াসিম চত্বর থেকে বাঁশেরকেল্লা পর্যন্ত এলাকাটি সমতল করে ঢালাই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে গাড়ি পার্কিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বসার জন্য আরও উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে। তবে ঠিকাদারদের বিলম্বের কারণে কাজটি এখনো শুরু করা যায়নি।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘গত নভেম্বর মাসে ময়লা রাখার জন্য একটি নির্ধারিত স্থান নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিয়মিতভাবে ময়লা সরিয়ে না নেওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব, যাতে প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিনই অপসারণ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, প্রধান ফটকের পাশের ওয়াশরুমটি বহিরাগতরাও ব্যবহার করেন। ফলে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ভবিষ্যতে ওই স্থান পুনর্বিন্যাস করে শিক্ষার্থীদের বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কর্মচারীদের জন্য আলাদা ওয়াশরুমের ব্যবস্থাও করা হবে।