১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেব কুবির স্বীকৃতি
১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ স্বীকৃতি দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। পাশাপাশি বার্ষিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিন্ডিকেট সদস্য।
জানা যায়, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রথম পুলিশি হামলায় রক্তাত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরেই ছাত্র-আন্দোলন চত্বরে (আনসার ক্যাম্পে) শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালানো হয়েছে। সেদিন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদেরও এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়েছে। এ ছাড়া টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ ও গুলি ছুড়েছে ততকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী। বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের এই ত্যাগকে সম্মান জানাতে ১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণা করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১১ জুলাইয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ১১ জুলাইকে ‘প্রথম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণ দিয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া।
১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দিন পুলিশি হামলার শিকার দৈনিক নয়া দিগন্তের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মানছুর আলম অন্তর বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রথম পুলিশি হামলাকে প্রতিরোধ করে সামনের দিকে এগিয়ে যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের এই সাহসিকতা এবং ত্যাগ দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও উজ্জীবিত করে। এই দিনটিকে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।’
ওই দিন সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার বিষয়ে তিনি স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে বিশ্বরোড অভিমুখে রওনা করলে আমরা কয়েকজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের সাথে রওনা দেই। কিন্তু পথে পুলিশ পথ আটকে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের ওপরও নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। গলায় আইডি কার্ড থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের একজন সহকর্মীর মাথায় আঘাত করে। আরও দুইজনকে পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় ফেলে গোল হয়ে লাঠিচার্জের পাশাপাশি লাথি দেন। এমনকি পরিচয় দেয়ার পরেও আমাকে লাঠিচার্জ করেন। পরে আমাদের মধ্যে গুরুতর আহত আটজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।’
১১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দিন পুলিশি হামলার শিকার আরেক শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, ‘১১ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার। ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব রক্ষায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনার পুলিশ প্রথম বুলেট ছুঁড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আন্সার ক্যাম্পের মোড়ে(ছাত্র আন্দোলন চত্ত্বর)।অন্যায়,জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম এবং বুলেটবিদ্ধ হয়েছিলাম, আজও সেই স্বপ্ন লালন করি এবং সকল প্রকার জুলুম,নিপীড়ন ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই কর্তৃপক্ষকে। ন্যায়ের পক্ষে যারা রক্ত দিয়েছে, অভ্যুত্থানে রক্তদানের সূচনা করেছে তাদেরকে এবং অভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দানের জন্য। ২৪ এর অভ্যুত্থানের স্বপ্ন ও আকাঙ্খা নিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়তে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভুমিকা রাখবে আমার বিশ্বাস।’