২৯ জুন ২০২৬, ১৯:৩৩

১৪৩ কোটি টাকা ঘাটতি রেখে ৩৩০ কোটির বাজেট অনুমোদন দিল জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৩০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। তবে এ বাজেটে ১৪৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ২৩০ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১১২তম (বিশেষ) সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়। সভায় বাজেট উপস্থাপন করেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম। 

অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, ৩৩০ কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সম্ভাব্য বরাদ্দ ১৫৯ কোটি ১০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাকি ১৪৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বাজেটে গবেষণা খাতে ৮ কোটি টাকা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ৩০ লাখ টাকা, অন্যান্য অনুদান খাতে ৬২ কোটি ৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যানবাহন খাতে ৫ কোটি টাকা, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূলধন ব্যয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

এ ছাড়া বেতন-ভাতা বাবদ ১২৯ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং পণ্য ও সেবা খাতে ১০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশেষ বৃত্তির জন্য ৬০ কোটি টাকা এবং আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী হল নির্মাণে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

সভায় জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন (ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন, প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৪৬ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে ২০১ কোটি ২১ লাখ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

এ সময় আরও জানানো হয়, ইউজিসি গবেষণা অনুদান, যানবাহনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ দিয়েছে এবং কিছু বরাদ্দ এখনো স্থগিত রয়েছে। সংশোধিত বাজেটে এসব অর্থ পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। 

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে হল নির্মাণে ৩০ কোটি টাকা, বিশেষ বৃত্তির জন্য ৬০ কোটি টাকাসহ মোট ১৪৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ঘাটতি পূরণে ইউজিসির মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।