২৫ জুন ২০২৬, ১৫:৩৫

সাত দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর খোঁজ মিলল জবি শিক্ষার্থীর 

খুঁজে পাওয়া গেছে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে  © টিডিসি ফটো

সাত দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেটের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি কেরানীগঞ্জ থেকে এখানে আসছি। আমার মাথায় এখন কাজ করছে না। আমি জানাতে পারছি না। 

নিখোঁজের বাবা আবুল কালাম বলেন,আমাকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে আছি। তখন আমি বলি, আমি ভার্সিটিতে আছি। জবাবে তিনি বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে আমি ভার্সিটির দিকে আসতেছি। পরে জানা যায়, তিনি ভার্সিটির গেটে গিয়ে অসুস্থ বোধ করায় সেখান থেকে চলে যান। 

তিনি আরও বলেন, এরপর সাঈদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এখনো এ বিষয়ে তার সঙ্গে বিস্তারিত কোনো কথা হয়নি। ঘটনাটি হাজারীবাগ এলাকায় ঘটেছিল। যতদূর জানা গেছে, তিনি কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হননি। সবাই বিভিন্নভাবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। দায়িত্বে থাকা এসআইও যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। তিনি সারাদিন বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন এবং আমাদের কোনো ধরনের হয়রানি করেননি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থী সিরাজ প্রামাণিক কয়েকদিন নিখোঁজ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগে ছিল। বিষয়টি জানার পরপরই প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাংবাদিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয় এবং প্রক্টরের নেতৃত্বে একটি টিম ধানমন্ডি থানায় কাজ করে। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিরাজকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পাওয়া গেছে। এ জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে সিরাজুল ইসলামের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে দ্রুত খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়।

এর আগে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাকক্ষে এক জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীকে দ্রুত খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।