সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী হলে মাদক সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন কলা অনুষদের ডিন ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে।
এ ছাড়া অন্যান্য সদস্যরা হলেন ‘বিদ্রোহ’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. তারিফুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, বিদ্রোহী হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন আইন ও বিচার বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হান্নান এবং দর্শন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ। মুগ্ধের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে হল প্রশাসনকে জানান হান্নান। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম কক্ষটি পরিদর্শন করলেও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে হান্নান কক্ষে ফিরে অ্যাশট্রেতে গাঁজার অংশবিশেষ দেখতে পান বলে দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হান্নান মুগ্ধকে চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাতে ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী হান্নানের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ দিকে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে হলের সেই ৭১৪ নম্বর রুমে নিজ সিটে অন্য শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে রাখায় ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করেছে বিদ্রোহী হল প্রশাসন। এ ছাড়া হলের সকল আবাসিক শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ বরাদ্দপ্রাপ্ত সিটে অবস্থান করার জন্য বিশেষভাবে বলা হয়েছে। কারও কক্ষে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেলে বা কেউ সেবন করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।