২০ জুন ২০২৬, ১৯:২৪

৩ বছর পর কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা হল না খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের

কিউএস র‍্যাঙ্কিং ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়  © টিডিসি সম্পাদিত

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশিত করেছে। এতে দেশের আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১৩টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থান করে নিয়েছে। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বিদ্যাপীঠ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) এবার তালিকায় স্থান হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং-২০২৭ প্রকাশিত হয়েছে।

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং-২০২৭ অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

২০২৪ সালের জন্য প্রকাশিত কিউএস রাঙ্কিং তালিকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মত স্থান পায়। সেবছর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ১৪০১+। তবে ২০২৫ সালের রাঙ্কিংয়ে খুবির অবস্থান ছিল ১২০১-১৪০০ এর মধ্যে। কিন্তু গতবছর ২০২৬ সালের র‌্যাঙ্কিংয়ে খুবির এ অবস্থান ১৪০০ এর পরে চলে যায়। আর এবার জায়গাও হয়নি র‌্যাঙ্কিংয়ে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, একসময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন র‌্যাঙ্কিং তালিকা থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বাদ পড়ছে। গত বছরও একটি আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল না।

তারা আরও বলেন, বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এর কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এভাবে একের পর এক বিশ্বমানের র‌্যাঙ্কিং থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বাদ পড়া আমাদের জন্য হতাশাজনক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্য অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক অ্যধাপক ড. মো. আশিক উর রহমান বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউএস র‍্যাঙ্কিং নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। গত বছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৪০১+ ক্যাটাগরিতেই রয়েছে। কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ের ডাটাবেজে খুবি ২০২৪ সালে প্রথম নিবন্ধিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ১৪০১+, ২০২৫ সালে ১২০০+। তবে ২০২৬ সালে আবার ১৪০১+ পজিশনে নেমে যায় এবং বর্তমান বছরেও একই অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য প্রকাশিত ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবার স্থান পায়নি। কারণ কিউএস ১৪০১ এর পরের অবস্থানগুলো আলাদাভাবে প্রকাশ করে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্দিষ্ট পজিশন জানা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ এলসেভিয়ার এর স্কোপাস ডাটাবেজ। বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি স্কুল ও লাইফ সায়েন্স স্কুলের গবেষকদের অবদান বেশি। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রধানত অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের গবেষণা দেখা গেলেও অন্যান্য ডিসিপ্লিন, বিশেষ করে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ স্কুলসহ বেশ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের স্কোপাস ইনডেক্সড প্রকাশনার সংখ্যা খুবই কম।

এছাড়া কিউএস  র‍্যাঙ্কিংয়ে আসতে হলে  বিভিন্ন অনুষদ ও ডিসিপ্লিনের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণা প্রকাশনা সংখ্যা আরও বাড়ানো। ধীরে ধীরে বাড়াতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউএস র‍্যাঙ্কিং আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯টি সূচকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। প্রতিটি সূচকে ১০০ করে স্কোর থাকে। সব সূচকের যোগফলের গড়ের ভিত্তিতে সামগ্রিক স্কোর নির্ধারিত হয়। র‍্যাঙ্কিংয়ের সূচকগুলো হলো- গবেষণা ও আবিষ্কার, শিখন অভিজ্ঞতা, কর্মসংস্থান, বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা, স্থায়িত্ব, ইন্টারন্যাশনাল ফি ও স্কলারশিপ, স্টুন্ডেট মিক্স, ইংলিংশ টেস্ট এবং অ্যাকাডেমিক টেস্ট।