ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে জবি ক্যাম্পাসজুড়ে তুমুল উন্মাদনা
পর্দা উঠেছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় মহোৎসব বিশ্বকাপ ফুটবলের। রেফারির বাঁশিতে মাঠে বল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ফুটবল উন্মাদনা। কোটি কোটি মানুষ এখন মজেছেন ফুটবলের জাদুতে। আর ফুটবলপ্রেমী এই বৈশ্বিক জোয়ার থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের বিদ্যাপীঠগুলো।
দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন ফুটবল নিয়েই মূল আলোচনা। তবে সাধারণ দর্শক ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশের মানুষের জন্য আসল আকর্ষণ এবং মূল উন্মাদনা এখনো বাকি।
বাংলাদেশে ফুটবল মানেই এক অন্যরকম আবেগ। আর সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। মূলত এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মাঠে নামলেই দেশে বিশ্বকাপের প্রকৃত আমেজ শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, আগামীকাল (১৪ জুন) ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ব্রাজিলের সমর্থকদের উল্লাস-উদ্দীপনা এখন তুঙ্গে।
আজ রাত ১০টায়, শনিবার ১৩ই জুন, আগামীকালকের (১৪ জুন) মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ব্রাজিলের সমর্থকদের উল্লাস। আগামীকাল ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের প্রথম ম্যাচকে কেন্দ্র করে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠী’র উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে টানানো হয়েছে ব্রাজিলের বিশাল এক পতাকা, যা পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, যা পুরো ক্যাম্পাসের আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক, সেখানে ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ পতাকা শোভা পাওয়ায় পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্রাজিলের সমর্থক গোষ্ঠী ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাজিল সমর্থক ফোরাম’ এর উদ্যোগে এই পতাকাটি টাঙানো হয়।
রাত পোহালেই ভোরে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী, যার বড় একটি অংশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবলকে ঘিরে সমর্থকদের পারস্পরিক রসিকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। ব্রাজিলের খেলার দিনে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা সাধারণত ব্রাজিলের প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন। একইভাবে আর্জেন্টিনার ম্যাচে ব্রাজিল এবং অন্য দলের সমর্থকেরা প্রতিপক্ষকে সমর্থন করেন। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি ও বাকযুদ্ধও বাড়তি মাত্রা যোগ করে এই বিশ্বকাপ উন্মাদনায়।
এ বিষয়ে,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠীর মূল আয়োজক এবং মার্কেটিং বিভাগের (২০২০-২১ সেশন) শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, 'ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ছোটবেলা থেকে এই দলটিকে সমর্থন করি। ২০২২ সালে ক্যাম্পাসে জুনিয়র হিসেবে সিনিয়রদের পতাকা টানানোর আয়োজন দেখেছিলাম। আজ ২০২৬ সালে আমরা সবচেয়ে সিনিয়র ব্যাচ হলেও ব্রাজিলের প্রতি আবেগ ও উদ্দীপনা আগের মতোই আছে। সেই উন্মাদনা দ্বিগুণ করতেই এবারও মূল ফটকে আমাদের এই পতাকা টানানো। আশা করি, আগামীকাল মরক্কোর বিপক্ষে জয় দিয়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত 'হেক্সা মিশন' সফলভাবে শুরু হবে। প্রিয় দলের এই অগ্রযাত্রাকে মুখরিত করতে সামনে ক্যাম্পাসে আরও বড় কিছু আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।'
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাজিল সমর্থক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ জিসান সিন বলেন, 'ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের ঐতিহ্য ও সাফল্য চিরকালই অনন্য। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সুন্দর ফুটবল আর নান্দনিক সাম্বা ছন্দের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই বিশাল পতাকা টানিয়েছি। জবি ক্যাম্পাসে ব্রাজিলের এই ঐতিহ্যবাহী গৌরব ধরে রাখতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত 'হেক্সা মিশন' শুরু হবে এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের মুখে হাসি ফোটাবে।'
এদিকে ব্রাজিলের এই আয়োজনকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না ক্যাম্পাসের আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। প্রিয় দলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এমন কাণ্ড দেখে তারা কিছুটা টিপ্পনী কাটলেও, মাঠের লড়াইয়ে মরক্কো চমক দেখাবে এমনটাই আশা করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, বরাবরের মতো এবারও বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখন অপেক্ষা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ সমর্থকদের প্রিয় দলগুলোর মাঠে নামার এবং সেই লড়াইকে নিজেদের মতো করে উদযাপন করার। ভোর ৪টার সেই মহারণে মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি কারা হাসে ,ব্রাজিলিয়ান সাম্বার ছন্দ নাকি মরক্কোর ডিফেন্স, সেটাই এখন দেখার বিষয়।