১২ জুন ২০২৬, ২১:৫৩

ক্যাম্পাসের ভবনে অনুমতি ছাড়া বসবাস, ‘অসামাজিক ও অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  © লোগো

গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মূল ক্যাম্পাসের পুরাতন ৫ তলা লাল ভবনে অনুমতি ছাড়াই অবস্থান করছেন একদল শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে করণীয় নির্ধারণসহ সুপারিশ প্রদানের জন্য ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (১০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার টি এইচ আহমেদ হুসেইন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। 

অফিস আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পুরাতন ৫ তলা লাল ভবনে অননুমোদিতভাবে বসবাসরত শিক্ষার্থী কর্তৃক ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ত্যাগের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে করণীয় নির্ধারণসহ সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলো। 

৭ সদস্যের কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যকে (প্রশাসন) আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে সদস্য-সচিব করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসএইচএল-এর ডিন, এসএসএস বিভাগের পরিচালক, এসএসএইচএল বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়েল ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও লাইব্রেরিয়ান।

এই কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়েল উপাচার্যের নিকট দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ভবনে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রণয়নসহ তাদের ছাত্রত্ব বিষয়ক হালনাগাদ তথ্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এর আগেও লাল বিল্ডিংয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদেরকে দ্রুত কক্ষগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য ২ বার নোটিশ ও অফিস আদেশ প্রদান করা হয়েছে। তবুও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ অমান্য করে সেখানে জোরপূর্বক অবস্থান করছে। যা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং বেআইনি। এছাড়া ছাত্রীরা যে বিল্ডিংয়ে আছে, সেখানে বহিরাগত শিক্ষার্থীও আছে বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর আমরা এই বিল্ডিং থাকার সময় থেকে কিছু শিক্ষকের সমর্থন ছিল। কিন্তু এখন তারা আমাদেরকে আর সমর্থন করছে না। এখন অবস্থান করলেও কয়েকজন শিক্ষার্থীর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত। আমরা এখন দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।