যবিপ্রবির ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসের ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, চিকিৎসা না মেলার অভিযোগ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসে গত তিন দিনে অন্তত ২০ জনের অধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, ডায়রিয়া ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারা। তবে অসুস্থ হলেও মেডিকেলে কোন চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যবিপ্রবির ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ফিল্ড ট্রিপের অংশ হিসেবে গত ৫ জুন সিলেট ভ্রমণে যান। ফিল্ড ট্রিপ শেষে গত ৯ জুন ফেরার পর থেকে ওই ব্যাচের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার থাকলেও সেখানে কোন ডাক্তার পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহনের জন্য নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স সেবা। ফলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অন্য যানবাহনে করে সদর হাসপাতালে নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর নিয়ে সংকটে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীরা
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে ন্যূনতম চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা উচিত। আমাদের মেডিকেল সেন্টার আছে, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখানে এখনো কোনো ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ছুটতে হয়। অসুস্থদের জরুরি পরিবহনের জন্য নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স সেবা। আমরা চাই প্রশাসন আমাদের দিকেও নজর দেবেন। চিকিৎসাসেবা পাওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমার বলেন, আমার চোখের অপারেশনের কারণে গত বুধবার পর্যন্ত আমি ছুটিতে ছিলাম। অপারেশনের পর অসুস্থতার কারণে আমি সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। তাই শিক্ষার্থীদের এ অসুস্থতার বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি খুব দ্রুতই এই বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিন বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুস্থতায় হল প্রভোস্টগন নিরলস পরিশ্রম করছেন। শিক্ষার্থীরা ট্যুর থেকে এসে অসুস্থ হয়েছেন বিধায় আমরা কারণ এখনো উদঘাটন করতে পারেনি। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম প্রয়োজনে পেছানো হবে। চিকিৎসকের ভাষ্যমতে সকলের অবস্থা আশঙ্কা মুক্ত। ইতোমধ্যে চারজন শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে হলে ফিরে এসেছে।