১১ জুন ২০২৬, ১২:৪৭

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ বৃত্তির চেক হস্তান্তর শুরু

বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতীকীভাবে ৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়  © টিডিসি

দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তির চেক হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রথম কিস্তির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতীকীভাবে ৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে ​জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচ (শিক্ষাবর্ষ ২০১৯-২০) থেকে শুরু করে ২০তম ব্যাচ (শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫) পর্যন্ত ১ হাজার ১৬৪ জন শিক্ষার্থী এই বিশেষ বৃত্তির আওতাভুক্ত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, সব অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সব ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রোভোস্ট, প্রক্টর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক এবং জকসু প্রতিনিধি দলসহ ক্রিয়াশীল সব ছাত্রসংগঠনের নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শুধু বৃত্তিই নয়, আমাদের মেগা প্রজেক্ট, অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি নিজেই খুব দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।’

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই বিশেষ বৃত্তি সময়মতো বণ্টন করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অর্থ ও হিসাব দপ্তরের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি অনুষদের ডাটাবেজ নিখুঁতভাবে যাচাই করছি, যেন কোনো শিক্ষার্থী জটিলতায় না পড়ে। এই বরাদ্দকৃত অর্থ শিক্ষার্থীদের আবাসন ও পড়াশোনার আর্থিক চাপ দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময়ই ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

​বৃত্তির অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন  জানান, চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

​জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তীব্র আবাসন সংকট নিরসন ও আবাসন ভাতার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করে আসছিলেন। গত বছর শিক্ষার্থীদের ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৫৬ কোটি টাকার একটি বিশাল আবাসন বৃত্তি বরাদ্দের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতাতেই আজকের এই বিশেষ ও সম্পূরক বৃত্তি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হলো।

​চেক হস্তান্তর ও সামগ্রিক বিষয়ে জকসু নেতারা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও যৌক্তিক দাবির ফলেই আজ এই বৃত্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে ত তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর অনুরোধ জানাচ্ছি খুব শিগগির বাকি টাকা খুব দ্রুতই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য।’

জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আবাসন সংকট জবি শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। এই বিশেষ বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ অনেকটাই লাঘব করবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল এই বিশেষ আবাসন বৃত্তি। প্রথম কিস্তির এই চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকট যেমন কিছুটা লাঘব হবে, তেমনি শিক্ষা জীবন আরও গতিশীল হবে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, কেবল এই বৃত্তিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন একই সাথে টিএসসি সংস্কার, নতুন হলের নির্মাণ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মেগা প্রজেক্টের কাজও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে একটি আধুনিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।