সীমান্তে পুশইন বন্ধ না হলে লংমার্চ করবে ছাত্র অধিকার পরিষদ
ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে অবৈধ পুশইন বন্ধ না হলে সীমান্ত অভিমুখে লং মার্চ অথবা ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের তৎপরতা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মেলনে নামজুল হাসান বলেন,‘অবৈধ পুশ-ইন যদি বন্ধ না হয় তাহলে ছাত্র অধিকার পরিষদ সীমান্তে লংমার্চ দিবে অথবা ভারতীয় হাই কমিশন ঘেরাও করবে। একই সাথে বর্তমানে যে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে ও আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই জায়গাতে সরকারকে দৃষ্টান্তমূলক কর্মসূচি নিতে হবে।’
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনের ব্যর্থতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও তারা আবারও বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, হামলা ও সাধারণ মানুষকে রক্তাক্ত করছে। তিনি ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিল ও হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, "প্রশাসনে থাকা কিছু সুবিধাবাদী চক্র এখনো আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ২০০০-এর অধিক শহীদ এবং হাজার হাজার আহতের পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। কিন্তু গত ১০০ দিনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা অন্যান্য মামলায় দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।" তিনি এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।’
আরও পড়ুন : প্রথমবারের মতো নিজ ক্যাম্পাস থেকে প্রো-ভিসি পেল নোবিপ্রবি
এছাড়া ছাত্র অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি নেওয়াজ খান বাপ্পী বলেন, ‘এমন কোনো খারাপ কাজ, পাপাচার, জুলুম- নির্যাতন নাই যা ছাত্রলীগ করেনি। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছিলো। এছাড়া বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবুবকর সিদ্দিকীকে তারা হত্যা করেছিল। ক্যাম্পাসগুলোতে টেন্ডার বাণিজ্য, হল বাণিজ্য, সিট দখল, এমনকি কাওরানবাজারের মুরগি চুরিও এই ছাত্রলীগ করেছিল।’
তিনি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও কার্যক্রম চলতে পারার জন্য প্রশাসনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আওয়ামীলীগকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতর থেকে এই চক্রকে নির্মূল করতে না পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন। তিনি এসআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বহিষ্কার এবং নতুন রিক্রুটমেন্টের মাধ্যমে প্রশাসনের ঢেলে সাজানোর দাবি জানান।