অর্ধযুগেও শেষ হয়নি কুবির নতুন ক্যাম্পাসের কাজ
অর্ধ যুগ পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় তিন ধাপে বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ। তবুও স্তিমিত হয়ে আছে কাজের অগ্রগতি। মূলত ‘অর্থাভাবে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না’- বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১১তম সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ২০২১ সালের ১১ মার্চ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ব্যাটালিয়ন ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি মোতাবেক ২০২১ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনী ভূমি উন্নয়ন ও ভৌত কাজ শুরু করে। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ওই প্রকল্পের মেয়াদ ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয় প্রকল্পের মেয়াদ। এই ধাপেও কাজ সম্পন্ন হয়নি কাজ। সবশেষে এই কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
‘অর্থাভাবে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। আমাদের এক্সটেনশন বাজেটের উপর অনেক রিভিশন হয়েছে। এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে একনেকে পাশ হলেই ফিনিশিং কাজ করতে পারবো। আগামী বছরের জুনে আমরা নতুন ক্যাম্পাসে যেতে পারব।’— প্রজেক্ট ডেভেলপার প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছরের জুনেও শেষ হবে না প্রকল্পের কাজ। মূলত অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে আছে কাজ। তবে তাঁরা ইউজিসির কাছে এখন পর্যন্ত কয়েকবার অর্থ বরাদ্দের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু ইউজিসি সেটার অনুমোদন দিচ্ছে না। গত মাসে ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত মিটিংয়েও বিষয়টি তাঁরা জানিয়েছল। মন্ত্রণালয় এটি বিবেচনা করবেন করবেন বলেও ধারণা তাঁদের।’
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্ট ডেভেলপার প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ‘অর্থাভাবে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। আমাদের এক্সটেনশন বাজেটের উপর অনেক রিভিশন হয়েছে। এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে একনেকে পাশ হলেই ফিনিশিং কাজ করতে পারবো। আগামী বছরের জুনে আমরা নতুন ক্যাম্পাসে যেতে পারবো।’
ইউজিসির মিটিংয়ে বিষয়টি জানানোর কিছুদিন পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ‘দায়িত্বের মাত্র কয়েক কার্যদিবস হয়েছে তাঁর। এর মধ্যেই তিনি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস নিয়ে কথা বলেছেন। ঈদের ছুটির পরপরই বরাদ্দের বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন।’
উল্লেখ্য সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের লালমাই মৌজার রাজারখলা এলাকার পাহাড়ি ও সমতলের ২০০ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় সেখানকার ১০০ একর জমির উন্নয়ন, ১০ তলাবিশিষ্ট ৪টি একাডেমিক ভবন, ৬ তলাবিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন, ১০ তলা করে ২টি ছাত্র ও ২টি ছাত্রী হল, উপাচার্যের বাসভবন, ১০ তলাবিশিষ্ট শিক্ষকদের একটি আবাসিক ভবন, ১০ তলাবিশিষ্ট একটি ডরমিটরি ভবন, ১০ তলাবিশিষ্ট কর্মচারীদের একটি আবাসিক ভবন, ১টি ৬ তলাবিশিষ্ট স্কুল, ১টি ৫ তলাবিশিষ্ট ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), ৩ তলাবিশিষ্ট ১ হাজার আসনের ১টি মিলনায়তন, ৬ তলাবিশিষ্ট ১টি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, ১টি ৩ তলাবিশিষ্ট মেডিকেল ও ডে কেয়ার সেন্টার, কেন্দ্রীয় মসজিদ, স্মৃতিস্তম্ভ, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও লেক খননের কাজ চলছে।