ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের যবিপ্রবি প্রশাসনের ঈদ উপহার
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ক্যাম্পাসের দীর্ঘ দূরত্ব, সামনে থাকা সরকারি চাকরির কঠোর প্রস্তুতি, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার মতো নানাবিধ কারণে এবার ঈদুল আযহায় নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে পারেননি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ঈদের দিনটিকে আনন্দময় ও উৎসবমুখর করে তুলতে বিশেষ ঈদ উপহারের ব্যবস্থা করেছে হল প্রশাসন। উপহারের মধ্যে ছিল সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, শুভেচ্ছা কার্ড ও ঈদ সেলামি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে যবিপ্রবি হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুমে গিয়ে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী সজিব হোসাইনের ক্যাম্পাসে প্রথম ঈদ পালন এবং প্রশাসনের উপহার ছিল অন্যরকম এক প্রাপ্তি। তিনি বলেন, খাবারের মান যথেষ্ট ভালো ছিলো। সকালে নাস্তা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা ছিল। নাস্তার সাথে যথাসাধ্য সালামিও দিয়েছে। দুই বেলা সময়মতো খাবার পেয়েছি। সারাদিন তেমন মনে হয়নি যে আমি বাসার বাইরে ঈদ করছি। দুপুরের খাবারের সময় আমরা কয়েকজন মিলে একসাথে খাবার খেয়েছি আড্ডা ও গল্পেে সময় পার করেছি। আমার মনে হয়েছে এটা আমার নতুন পরিবার এবং পরিবারের লোকজন গুলো যথেষ্ট আন্তরিক।
আরেক চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থী বলেন, সামনে পরীক্ষা এবং আর্থিক কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এবার বাড়ি যাইনি। হল খোলা রেখে এবং আমাদের ঈদের দিনে এভাবে আপন করে নিয়ে প্রশাসন যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই সেলামি আর ভালোবাসা আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা।
শহীদ মশিউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মোঃ মজনুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন ক্যাম্পাসে নিজেদের নিরাপদ এবং ঘরের মতো পরিবেশে মনে করতে পারে সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শিক্ষার্থীদের খাবার এবং উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যারা ঘরে ফিরতে পারেনি তারা নিরাপদে এবং আনন্দের সাথে ঈদ উপভোগ করুক এটাই কাম্য।