নজরুলের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলতে হবে: ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সোমবার জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম আমাদের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। নজরুলের চেতনা ধারণ করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও অভাব-অনটনের মধ্যেও তাঁর লেখনী থেমে থাকেনি। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গনে তাঁর সফল বিচরণ ছিল।’
নজরুলকে সাম্যের কবি, বিদ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, শান্তির কবি ও সব্যসাচী কবি হিসেবে উল্লেখ করে উপাচার্য আরও বলেন, ‘গবেষণা ও চর্চার মাধ্যমে তাঁর দর্শনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাঁর আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী জাতীয় কবির চেতনা সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা দেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হন।
পরে শোভাযাত্রাসহ তারা কবির সমাধিতে যান এবং সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।