কুবিতে শিক্ষার্থীকে ‘লোহার শিকল’ দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন সহপাঠী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীকে লোহার শিকল দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠীর বিরুদ্ধে। শনিবার (১৭ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসংলগ্ন মামা হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনে অভিযুক্তের বিচার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম চৌধুরী। অভিযুক্ত একই বিভাগের ও একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহ পরান হোসাইন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে হাতাহাতির একটি ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। তবে পূর্বের সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান অভিযুক্ত শিক্ষার্থী।
অভিযোগে আরো বলা হয়, আজ সকালে হামলার সময় লোহার শিকল দিয়ে আকরামের (ভুক্তভোগী) মাথা, চোখ, কান, হাত ও পিঠে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, সদর হাসপাতালে তার চোখের উপরের অংশে পাঁচটি ও নিচের অংশে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসক সিটিস্ক্যান করার পরামর্শ দেন। এছাড়া হাত ও পিঠে ব্যান্ডেজ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অভিযুক্তের কারণে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহ পরান হোসাইন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি তাকে মারেননি। ভুক্তভোগী তাকে আঘাত করলে তিনি নিজেকে নিজেকে রক্ষা করেন।
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. আব্দুল হাকিম বলেন, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর মধ্যে পূর্বে একবার মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তমতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর মুচলেকা নিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়। যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে তারা যেকোন শাস্তি মেনে নিবে বলেন। আজকে সকালে পুনরায় একজন আরেকজনের উপর হামলা করেছ বলে অভিযোগ পেয়েছি আমরা। প্রক্টরিয়াল বডি বসে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে।