১৭ মে ২০২৬, ১২:৩৩

ইবি প্রশাসনের ব্যর্থতায় এডিপির নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে নাম নেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

পরিকল্পনা কমিশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ইউজিসির অধীনে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৪৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। তবে এসব প্রকল্পে নাম নেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের। তবে এর জন্য দায়ী ইবি কর্তৃপক্ষই। 

জানা গেছে, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য (সচিব) এসএম শাকিল আখতারের সভাপতিত্বে গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প (সবুজ পাতা) অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব যাচাই-বাছাই ও বিবেচনার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

উক্ত সভায় প্রাথমিকভাবে মোট ৮৫টি প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উত্থাপিত হয়। যার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৬টি, বাংলাদেশ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ১৭টি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে ৬১টি এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ১টি প্রকল্প ছিলো। যাচাই-বাছাই শেষে ইউজিসির অধীনে বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। 

এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা, গোপালগঞ্জ ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২টি করে ১৪টিসহ বুয়েট, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়সহ নতুন পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট ৪৪টি প্রকল্প নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে গেল বছরে নতুন কোনো প্রকল্প প্রস্তাবনা না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পই সেখানে স্থান পায়নি। 

এর আগে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ৩ মার্চের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এডিপির সবুজ পাতায় নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির নিমিত্তে প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পের জন্য সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (প ও উ) বরাবর নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিশনে প্রেরণের জন্য বলা হয়। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ইবিতে ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার একটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। গত বছরের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে ড. নওয়াব আলীকে সরিয়ে এস্টেট অফিসের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়োগ দেন উপাচার্য ড. নকীব নসরুল্লাহ। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আগে নতুন দুটি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দিয়ে এসেছিলেন ড. নওয়াব আলী। তন্মধ্যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ পর্যায়ের উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি ১৬৩৬ কোটি টাকার একটি এবং গবেষণা উন্নয়নের জন্য ৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ছিলো। কিন্তু নতুন পরিচালক দায়িত্বে আসার পরে সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। আর তাই চলমান ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ইবির উন্নয়নে আর কোনো নতুন প্রকল্প থাকছে না। 

তবে দীর্ঘদিন যাবৎ নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প না থাকার বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া চলমান প্রকল্পের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ। তাই এই প্রকল্প শেষে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বড়ো ধরনের ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। এছাড়া, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং নতুন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যে একাধিক প্রকল্প থাকলেও তালিকায় ইবির নাম না থাকাটা প্রশাসনের দুর্বলতা বলে মনে করছেন অনেকে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ড. নওয়াব আলী বলেন, ‘উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের কাজই হচ্ছে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন প্রকল্প সাবমিট করা। আমাদের বর্তমানে একটি মাত্র প্রকল্প, ঠিকাদারের গাফিলতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, যেটা ২০১৯ সালে অনুমোদিত। আমার দায়িত্বপালনকালীন সময়ে বিভিন্ন বিভাগ এবং অফিসের চাহিদা নিয়ে দুইটা প্রকল্প সাবমিট হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি যেহেতু সেই পদে নেই, তাই এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরেও নতুন প্রকল্প দাখিল করতে না পারার কারণ হিসেবে এই বিভাগে দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবলের অভাব এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন। 

বর্তমানে একটি স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল ও ক্রীড়া গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নিয়োগের পরে এই নতুন প্রজেক্ট কেন্দ্রিক কাজগুলোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু সফল হইনি। ক্রীড়া বিভাগের একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ চলছে, বিগত প্রজেক্টের অনেক ভুল ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। তবে এতে কর্তৃপক্ষের যে সহযোগিতার দরকার তা আমি পাইনি। কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে কিছু খরচ করতে হয়, কিন্তু সেক্ষেত্রে বাজেট স্বল্পতার সমস্যা হয়েছে। দায়িত্বে থাকলেও সবসময় আমাদের হাতে সব কিছু থাকে না।’