১৭ মে ২০২৬, ১২:০৩

উপাচার্য বদল হতেই শিক্ষকদের ‘আন্দোলন স্থগিত’, ছুটি শুরুর দিনে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে(ববি) উপাচার্য পরিবর্তনের পরেই চলমান শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক শাটডাউন থেকে সরে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ। শনিবার (১৬মে) এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিক্ষক সমাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছুটির ভিতরে ক্লাস ও পরীক্ষার কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এই প্রেস রিলিজে।

শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ১০ মে শিক্ষক সমাজ দ্বিতীয়বারের মতো অ্যাকাডেমিক শাটডাউনসহ সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। 

পরবর্তীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ মে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করেন সরকার। সে তালিকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে উপাচার্যের পদটিতেও আসে পরিবর্তন। 

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ। যিনি পূর্বেও বিশ্ববিদ্যালয়টির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গতবছর (১৩মে ২০২৫) শিক্ষার্থীদের উপাচার্য পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক শুচিতা শরমিন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী এবং কোষাধ্যক্ষ যিনি বর্তমানে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ কে অপসারণ করা হয়।

রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো.আবুবকর সিদ্দিক বলেন, "প্রমোশন সহ অন্যান্য জটিলতার দাবিতে শিক্ষক গণ আন্দোলন করছিলেন। ভিসি পরিবর্তন হওয়ার সাথে শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত হয়েছে, যেটা স্বস্তির বিষয়। তবে আমরা আশা করবো বর্তমান উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর সাথে কাজ করবে এবং এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেই ব্যবস্থা নিবে এবং সমস্যা গুলো নিরসন করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে।"

গণিত দশম ব্যাচের সাইফুল ইসলাম বলেন,"পদোন্নতি থেকে বড়ো ব্যাপার নতুন সরকারের অনুগত ভিসিকে আনতে সাহায্য করা। এটা বাংলাদেশের কালচার সরকার চেঞ্জ হওয়ার সাথে সাথে সব অফিস আদালতের ম্যানেজমেন্ট চেঞ্জ হবে, ভার্সিটির ভিসি চেঞ্জ হবে। এই পদ গুলা চেঞ্জ করে নতুন সরকারের অনুগত দের পদায়ন করা হয়। সেই কালচারের অংশই ছিলো আমাদের এই ভিসি পরিবর্তন। ভিসি পরিবর্তনের জন্যই এই আয়োজন ছিলো।"

নাম না প্রকাশে শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন,"এটা স্পষ্ট যে শিক্ষকরা স্যারকে (সাবেক উপাচার্য) অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা মানে তার পদত্যাগ চাওয়া, এতে কোনো সন্দিহান নেই। শিক্ষকরা এই অবাঞ্ছিত ঘোষণা মানিই, স্যার যদি থেকেও যেতো তাহলে তিনি ভালোভাবে ফাংশন করতে পারতো না। তাই এই অবাঞ্ছিত ঘোষণা শুধু একটাই বার্তা দেই তার পদত্যাগ। উপাচার্য পরিবর্তনের পরই শিক্ষক সমাজ আন্দোলন থেকে সরে আসার কারণ আমি মনে করি,'এটিই হওয়ার কথা ছিল'। আর শুনেছি নবনিযুক্ত উপাচার্য শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ও আশ্বস্ত করেছেন।"

জানা গেছে,বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সাথে পদোন্নতি জটিলতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আশ্বস্ত হয়ে আপাতত তারা আন্দোলন শেষ করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আজ থেকে ১৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদোন্নতি প্রত্যাশী এক শিক্ষক বলেন, আগের উপাচার্যের মতো এই উপাচার্যও যদি বিষয়টা নিয়ে ঢিলেমি করে তাহলে আমাদেরকে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবতে হবে।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির বলেন,"নবনিযুক্ত উপাচার্যের সাথে আজকে(১৬মে) আমাদের আলোচনাসভা হয়েছে। আলোচনায় তিনি সকল শিক্ষকদের জন্য পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক একটা সমাধানের কথা বলেছেন।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাদেকুর রহমান বলেন,"উপাচার্যের সাথে পদোন্নতি জটিলতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত একটা সমাধান দিবেন। আমরাও আশা করছি দ্রুত সমাধান করবেন বিষয়টি। আগের প্রশাসনের মতো বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা করলে শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে যাবে বলে মনে করেন তিনি।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন,"শিক্ষকদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পদোন্নতির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে আমরা একসাথে যৌক্তিক একটা সমাধানের পথ বের করবো। আশাকরছি বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে ইউজিসির সাথেও বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে এবং যে-কোনো একটি উপায়ে সমাধান বের করতে হবে।"