১৪ মে ২০২৬, ২২:৩১

ইবির ১৫তম উপাচার্য কে এই ড. মতিনুর রহমান? 

অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ও ইবি লোগো   © টিডিসি সম্পাদিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৫তম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। আগামী চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে তিনি ১৪তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে উপাচার্য হিসেবে তাকে নিয়োগ দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯০ সালে বি.এস.এস (অনার্স) এবং ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণীতে ৩য় স্থান অধিকার করে এম.এস.এস ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার অংশ হিসেবে তিনি ২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন: বাংলাদেশের এনজিও কার্যক্রমের ওপর একটি সমীক্ষা’ বিষয়ের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের শিক্ষকতা জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) রাজনৈতিক স্টাডিজ ও পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। একই বছরের অক্টোবর মাসে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৯ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০৪ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি লোক প্রশাসন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

আরও পড়ুন: বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বানানো হলো সমাজকল্যাণ-মার্কেটিংয়ের দুই অধ্যাপককে

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন মেয়াদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট, প্রেস প্রশাসক এবং রাজনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি মাস্টার্স অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এর সমন্বয়কারী এবং সেন্টার ফর সোশ্যাল স্টাডিজের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের সম্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট এবং কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সদস্য হিসেবে রয়েছেন তিনি।

তিনি নরওয়ে, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, ইন্দোনেশিয়া, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং তার গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে প্রশংসিত হয়েছেন। গত ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন ড. মতিনুর রহমান। বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতেও নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক নানা বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছেন।

সাংগঠনিক দিক থেকে তিনি ২০০৯ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সভাপতি এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে তিনি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া তিনি ইবির বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ এর আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন (ইউট্যাব) এর কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গবেষক হিসেবে অধ্যাপক মতিনুর রহমানের বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে ৩৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে -দারিদ্র্য বিমোচন, এনজিওর ভূমিকা, সুশাসন, ই-গভর্নেন্স, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)। ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বহু জার্নালে তার ৩৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়। এ পর্যন্ত তার দুটি গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে।