কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৮৯.৮২ শতাংশ
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কামিল মাদ্রাসাসমূহের দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) পরীক্ষা ২০২৪-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় মোট ৮৯.৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। রবিবার (১০ মে) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবু জাফর খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ভাইস-চ্যান্সেলরের কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।
ফলাফল প্রকাশকালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ব্যবস্থাপনায় অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার জনাব এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব ফাহাদ আহমদ মোমতাজী, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জিয়াউর রহমানসহ পরীক্ষা দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন|
ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ফলাফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো সনদ ও নম্বরপত্র পত্র পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, বর্তমানে এক বছর মেয়াদি কামিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এ পরীক্ষার ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা হবে।
মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুধু পরীক্ষা পরিদর্শনই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরীক্ষা গ্রহণে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে| যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে দেশের সব মাদ্রাসাকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে দ্রুত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করার মাধ্যমে সেশনজট শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে|
এ বছর কামিল পরীক্ষার মেধাতালিকায় চূড়ান্ত বর্ষে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ছারছীনা দারুসুন্নত কামিল মাদ্রাসা, ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থান লাভ করেছে। এছাড়াও প্রথম বর্ষে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থানে রয়েছে।
সারাদেশের ১৬৭টি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও চূড়ান্ত বর্ষ মিলিয়ে মোট ৪২ হাজার ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬২২ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রথম বর্ষে পাসের হার ৮৩.৫১ শতাংশ এবং চূড়ান্ত বর্ষে ৯৬.১২ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (http://iau.edu.bd/) পাওয়া যাবে।