০৮ মে ২০২৬, ১৮:৪৬

ভিসির পদত্যাগ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকাদের ‘ছাত্রলীগ আখ্যা’, ছাত্রদলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা

ছাত্রদলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি  © টিডিসি সম্পাদিত

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল একদল শিক্ষার্থী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তখন বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতিরও ঘটনা ঘটেছে। তবে ছাত্রদল অভিযোগ করে বলছে, সংবাদ সম্মেলনকারীরা ছাত্রলীগের কর্মী। তারা ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।

আজ শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে আজ দুপুর ১২টার দিকে একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেয় শাখা ছাত্রদল।

দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরুর কিছু আগে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান উপস্থিত হয়ে আয়োজক শিক্ষার্থীদের কাছে সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চান। এ সময় অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। 

এ সময় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়ামকে উদ্দেশ্য করে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, উপাচার্য কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজের পদ ও একইসঙ্গে শিক্ষকতা ছেড়ে দেবেন।

পরে হাফিজুর রহমান সিয়াম উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জাল সনদে চাকরির অভিযোগ ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রক্টরের কাছে তা জানতে চান।

প্রক্টর বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সনদ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে এবং যাচাই শেষে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দেন এবং তিনি ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম জানান, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। কিন্তু প্রক্টরের ‘প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে’ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দেন। তিনি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফির বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগও করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন নিয়ে ধারাবাহিক টালবাহানা ও ব্যর্থতায় শিক্ষার্থীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের রক্ষার প্রবণতা দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি বলেন, হাফিজুর রহমান সিয়াম ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, যে শিক্ষার্থী সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল, আমি সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী সেখানে আসায় ঝামেলার সৃষ্টি হয়।