০৬ মে ২০২৬, ১৪:০১

বহিষ্কারের পরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে জকসুর আলটিমেটাম

ভিসি ভবনের সামনে জকসু নেতাদের বিক্ষোভ  © টিডিসি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় মারার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কৃত সাদিয়া সুলতানা নেলীকে প্রশাসনের সহযোগিতায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিসি ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন জকসুর নেতারা। ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে আগামীকাল (৭ মে) পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন তারা।

এ বিষয়ে জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আবদুল আলিম আরিফ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার নেলী কোনো ধরনের অনুতপ্ত না হয়ে সে যে ধরনের স্বেচ্ছাচারমূলক আচরণ করেছে এবং জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে আক্রমণত্মাক, শারীরিকভাবে লাঞ্চনা করেছে, সে ঘটনার নিন্দা আমরা ইতিপূর্বে করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ ঘটনার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছিলাম। প্রশাসন সেটি আমলে নিয়েছে। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, তারা তাদের জায়গা থেকে এর উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করবে। আমরা এমন দৃশটান্তমুলক শাস্তি চাই, যারা এমন কাজ করে বা করতে চায় শুধু একজন শিক্ষার্থী সংসদের সদস্য হিসেবে না, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলার সাহস যেন না করে।’

এ বিষয়ে জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম সদস্য ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইমের সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। প্রশাসনের কাছে বিচার চাইলে তারা বলে বিচার করবে। কিন্তু ঘটনার দুইদিন পর বিচার না হলে আমরা প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিই, সোমবারের মধ্যে বিচার করতে হবে। কিন্তু প্রশাসন বিচারের নাটক করে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। কিন্ত বহিষ্কারের পরের দিনই অভিযুক্ত নেলীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য সুযোগ দেয়। আমরা চেয়েছিলাম প্রশাসন এর সুন্দর বিচার করবে কিন্তু প্রশাসন সেটি করেনি।’

তিনি বলেন, ‘এই ভিসি ভবনের সামনেই আমাদের সাবেক প্রক্টর তাজাম্মুল স্যারকে সাবেক শিক্ষার্থীরা ধাক্কা দেয়, যেসব শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকার কথা না। তারা রমজান মাসেও আমাদের শিক্ষকদের হেনস্তা করে এবং তাদের ফোন চেক করে এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। কিন্ত প্রশাসন এসব ঘটনার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’

জকসু ভিপি বলেন, ‘যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিকে হেনস্তা-শারীরিকভাবে আঘাত করা হলো তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইওয়াশমূলক সাময়িক বহিষ্কার করেছে। আবার অভিযুক্তকে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশও দিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দুইদিনের আলটিমেটাম দিয়ে ভিপি বলেন, ‘এই সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত বোর্ড-এর রিপোর্ট প্রকাশ করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যদি প্রশাসন তা না করে, তাহলে আমরা রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ হাজার শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব।’