শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহী ইউনেস্কো
ইউনেস্কো বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল ২০২৪ সালের আগস্ট গণআন্দোলন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইউনেস্কো ও ইউজিসি গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।
পূর্ববর্তী প্রকল্পের সফলতার ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণে ইউনেস্কোর আগ্রহের কথাও তারা জানান। বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান নরিহিড ফুরুকাওয়া, ভারতের ইউনেস্কো মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন ফর পিস অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (ইউনেস্কো এমজিআইইপি) অ্যাসোসিয়েট প্রজেক্ট অফিসার ড. রিচা বানশাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান এবং ইউনেস্কোর প্রোগ্রাম অফিসার (শিক্ষা) রাজু দাস।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, নানা কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুষ্ঠু ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮০ শতাংশ শহরের বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসে। শহরের পরিবেশ তাদের অনেকের জন্য সম্পূর্ণ নতুন। এসব শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য অংশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সদস্য।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাদের অনেকেই পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা থাকে না।’
আরও পড়ুন: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন ফ্রিডম দেওয়া যাবে না, যা ‘হলি আর্টিজান’ তৈরি করে
তিনি আরও বলেন, সফট স্কিলের ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে না। আবার অনেক শিক্ষার্থীকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের খরচ বহনের পাশাপাশি পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করতে হয়। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও হতাশা তৈরি হয়।’
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল উন্নয়ন কার্যক্রমও সম্ভাব্য নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানান।
সভায় ইউজিসি ও ইউনেস্কো সম্ভাব্য প্রকল্পের কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়। ইউনেস্কো ও ইউজিসির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২২টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। এর বাইরে প্রকল্পের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে আরও অন্তত ২০ হাজার শিক্ষার্থী এ সেবা গ্রহণ করেছে।