দুই বছরেও বসেনি পদোন্নতি বোর্ড, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তীব্র ক্ষোভ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুই বছরে একবারও পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন বোর্ড না বসায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে বছরে চারবার আপগ্রেডেশন বোর্ড বসার বিধান রয়েছে। তবে গত দুই বছরে নিয়ম অনুযায়ী মোট আটবার এই বোর্ড বসার কথা থাকলেও একবারও তা কার্যকর হয়নি।
ফলে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে অনেক কর্মকর্তা তাদের ন্যায্য জ্যেষ্ঠতা হারাচ্ছেন, যা আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংকট নিরসনে তারা ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে একাধিকবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু উপাচার্য বিভিন্ন সময়ে নানা যৌক্তিক ও অযৌক্তিক সমস্যার কথা তুলে ধরে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
কর্মকর্তাদের দাবি, উপাচার্যের এই উদাসীনতা একদিকে যেমন তাদের হৃদয়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে তাদের সামাজিক ও পেশাগত অস্তিত্বকেও সংকটের মুখে ফেলেছে। যথাসময়ে পদোন্নতি না হওয়ায় প্রতিটি কর্মকর্তা বর্তমানে এক ধরনের অদৃশ্য মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব তাদের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ছে।
তারা বলেন, এটি কেবল প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা নয় বরং কর্মকর্তাদের প্রতি এক ধরনের চরম অবিচার। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী চাকরি, পেনশন ও পদোন্নতি সংক্রান্ত সকল বিধিবিধান সংশোধন করে দ্রুত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ২০২৩ সালের ন্যূনতম যোগ্যতার নির্দেশিকা অনুসরণ করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এবং কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।