০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০১

ছাত্রলীগ কর্মী থেকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার গুঞ্জন, ছিলেন ছাত্র নির্যাতনে অভিযুক্তও

ছাত্রলীগ কর্মী থেকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার গুঞ্জন, ছিলেন ছাত্র নির্যাতনে অভিযুক্তও  © টিডিসি সম্পাদিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ৪ বছর পার হলেও গঠিত হয়নি চূড়ান্ত কমিটি। এরইমধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের গুঞ্জন এবং ছাত্র নির্যাতনসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংগঠনের ভেতরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৬ জুন ইমরান হোসেন প্রধানকে আহ্বায়ক এবং আল আমিনকে সদস্য সচিব করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ২৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৩ মাস হলেও পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে ইউনিটটির সাংগঠনিক কার্যক্রম। যদিও ২০২৫ সালের ১১ মে কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাকির আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর সানি এবং মো. রিসালাত ইসলাম সজীবকে দায়িত্ব প্রদান করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। সম্মেলনে অতি দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণার আশ্বাসও দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ ছিল কমিটির গঠনের প্রক্রিয়া।

এদিকে সম্প্রতি নতুন কমিটি ঘোষণার গুঞ্জন উঠে। এতে শীর্ষ নেতৃত্বে (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) আসতে অন্তত ৭ জন পদপ্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে একজন তোফায়েল পূনম। অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী ৫ আগস্টের পূর্বে ছাত্রদলে সক্রিয় ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে রয়েছে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ১৭ মে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান শিশিরকে বিদ্রোহী হলের ৫১৫ নাম্বার রুমে মারধর করে কানের পর্দা ছিঁড়ে ফেলা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হামলার বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে তোফায়েল পূনমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের রুমে ডেকে এনে র‍্যাগিংয়ের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ (অভি সাব্বির) এর অনুসারী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তোফায়েল পূনম। সিট দখল, হামলাসহ নানান অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ছাত্রলীগের আল মাহমুদ কায়েস ও রিয়েল সরকারের নতুন কমিটিতে পদপ্রার্থী হিসেবে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয় এবং সেই সাথে হলের বৈধ শিক্ষার্থীদের সিট থেকে উচ্ছেদের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তর অনুসারীর সাথে হাস্যোজ্জ্বল ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

সূত্র বলছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পদ পেতে সহযোগিতা করছে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোহিউদ্দিন, যিনি বর্তমানে একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। যার ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে আরও কয়েক বছর আগেই।   

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তোফায়েল পূনম বলেন, আমি কাউকে মারিনি। যারা মেরেছিল, তারা আমার পরিচিত। মারামারির ঘটনার পর আমার রুমে এসে বসেছিল। সেজন্য শিক্ষার্থীরা ভেবেছিল এই ঘটনার সাথে আমি সম্পৃক্ত। ঘটনা ঘটেছিল ৫১৩ নম্বর রুমে। আমি কেবল ওই রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।

ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। অভিযোগ ভিত্তিহীন। যে ছবির কথা বলা হচ্ছে সেটি ২০১৭ সালে কলেজের মামার সাথে তোলা হয়েছিল। এ বেশি কিছু না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি গঠনের টিম লিডার ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাকির আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, তোফায়েল পুনম নামে একজনের নামে সুপারিশ এসেছে আমার কাছে। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টা আমরা জানি। এখনও আমাদের এই কমিটি ফাইনাল হয়নি, তাকে যে কমিটিতে রাখব বিষয়টা এখনও এরকম নয়। আমরা আরও যাচাই-বাছাই করে দুয়েকদিনের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করে আমি জমা দেব। কমিটি চূড়ান্ত করার দায়িত্ব শীর্ষ দুই নেতার।