০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১০

জ্বালানি সংকটে বিঘ্নিত নোবিপ্রবির পরিবহন সেবা, রুট শিডিউল বাতিল

বাসের জন্য অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

 দেশব্যাপী চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবহন সেবা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সাধারণ শিক্ষার্থী। তেলের তীব্র সংকট ও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে বাসের নিয়মিত শিডিউলে বাস দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে বাতিল করা হয়েছে বিভিন্ন রুটের বাস শিডিউল। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের দীর্ঘক্ষণ পরও বাস না আসায় শিক্ষার্থীদের তপ্ত রোদে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রতি ট্রিপে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের পাদানিতে ঝুলে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিন এমন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখা সূত্র জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীদের বিপরীতে ভাড়ায় চালিত ডাবল ডেকার বাস রয়েছে ১৩টি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস রয়েছে ১১টি। কিন্তু জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে সময়মতো তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাইজদী ও সোনাপুর রুটে আগে যেখানে প্রতি ঘণ্টা অন্তর বাস চলাচল করত, বর্তমানে সেখানে অনেক ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে পরিবহনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। 

এদিকে পরিবহন সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে না পারায় নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরুপায় হয়ে নির্ধারিত ক্লাস বাতিল করতে হচ্ছে বিভাগগুলোকে।

ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রথম বর্ষ থেকে শুরু করে শেষ বর্ষে এসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বাসের শিডিউল বিপর্যয় এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বারবার আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এ সমস্যার সমাধানে পরিবহন পুলকে যথাযথ তদারকির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. কাওসার হোসেন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বাস সেবা সচল রাখতে। কিন্তু জ্বালানি সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা কিছু ট্রিপ কমাতে বাধ্য হয়েছি। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাস চলাচল দ্রুতই আগের মতো নিয়মিত হয়ে যাবে।’

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ও ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির বাসগুলো নিয়মিত চলাচল করছে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জ্বালানি সাশ্রয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এবং সে অনুযায়ী একগুচ্ছ নির্দেশনাও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাস শিডিউল নতুন করে করা হয়েছে। পাশাপাশি অফিস সময় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত শিডিউলে যেন পর্যাপ্ত বাস সরবরাহ হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছি।’