বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে রাইস কুকার-বৈদ্যুতিক চুলা জব্দ, ছাত্রীদের ক্ষোভ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিকন্যা হলে শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে রান্নার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দকে কেন্দ্র করে নতুন করে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। হল প্রশাসনের অভিযানে হিটার ও রাইস কুকার জব্দ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আবাসিক হলের ছাত্রীরা।
সোমবার বিকালে হল প্রভোস্টের নির্দেশে হাউজ টিউটর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলের বিভিন্ন কক্ষে অভিযান চালান। এ সময় শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বৈদ্যুতিক চুলা, হিটার ও রাইস কুকার জব্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে অন্তত ১৫টি হিটার ভেঙে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার না করার জন্য শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়। তবে আবাসন সংকট, হলের খাবারের নিম্নমান, ডাইনিং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ জানান শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষিকন্যা হলের এবং কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের এক শিক্ষার্থী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জব্দ করার নামে কিছু জিনিস নষ্ট করা হয়েছে। এই হিটার বা ইনডাকশনগুলো ভাঙা হলো, এগুলো তো হল থেকে দেওয়া হয় নাই। এগুলো যারা কিনেছে তারা তো নিজেদের টাকায় কিনেছে। হল কর্তৃপক্ষ ফাইন ও করতে পারতো। যন্ত্রগুলো এভাবে নষ্ট করার ক্ষতিপূরণ কি দেওয়া হবে আদৌ?
হলের সিট সংকট এবং ডাইনিং এর খাবারে দুর্দশার কথা উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করা শর্তে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে এই হল থেকে? এর শেষ কোথায়? আমাদের সঙ্গে এই হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা অবর্ণনীয়। আমরা সারা বছর পানির কষ্ট সহ্য করি, সিটের কষ্টও মেনে নিয়ে চলছি শুরু থেকে। এখন আমাদের খাবারের কষ্টও করতে হচ্ছে। এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? হলের ডাইনিংয়ের খাবার প্রায় সময়ই এমন থাকে যে তা মুখে নেওয়ার মতো থাকে না।’
কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলে তীব্র সিট সংকট রয়েছে। চারজনের রুমে ৬ জন থাকতে হয়, রুমে পড়ার টেবিল রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। কিচেনের কোনো ব্যবস্থা নেই।হলের ডাইনিং এ খাওয়া সবসময় সবার জন্য সম্ভব হয় না। কোনোরকম কিচেনের ব্যবস্থা না থাকায়, বাধ্য হয়ে ছাত্রীরা রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। অন্য সব হলের তুলনায় অপ্রতুল সুবিধা সত্ত্বেও এ ধরনের অভিযান কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
এ বিষয়ে কৃষিকন্যা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমি উপাচার্যের নির্দেশে হিটার, রাইসকুকার জব্দ করেছি। হলের বিদুৎ লাইনগুলো হিটারের জন্য না। এগুলো শুধু লাইট ফ্যান ব্যবহারের জন্য। হিটার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দেয়। বারবার বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে স্থায়ী কর্মচারীও রাখতে হয়েছে।’
আবাসন সংকট ও রান্নাঘরে সিট বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আবাসন সংকট নিরসনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কোনো কক্ষই ফাঁকা রাখা হয়নি এবং গতকালও সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। থিসিস শেষ হওয়া মাত্রই শূন্য আসনে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ফ্লোরে রান্নাঘর ছিলো। কিন্তু রান্নাঘরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অভিযোগের মাথায় রান্নাঘর বন্ধ করতে হয়েছে।’
ডাইনিং ব্যবস্থাপনা ও খাবারের মান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ডাইনিং ম্যানেজিং কমিটির সাথে যোগাযোগ রাখছি। ডাইনিং সমস্যার খুব দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য বলেছি। আমি হাউজ টিউটর একজন দায়িত্বে দিব। হঠাৎ তদন্তের জন্য যাবে কোনো সমস্যা হলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ছাত্রীদের মাধ্যমেই ডাইনিং সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।’