০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৯

ছাত্রদলে মেধাবী ও রানিং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চায় কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা

ছাত্রদলের লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলেও পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কলেজের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি না থাকে এবং মেধাবী ও রানিং শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের মতে, তরুণরা নেতৃত্বে আসলে ছাত্রদল আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাবে।

গতবার কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর অন্য একটি গ্রুপের সদস্যরা ক্যাম্পাসের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা এবার আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।

সাবিহা নামে কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি মনে করি ছাত্রদলে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে আসা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সিনিয়রদের সঙ্গে আমাদের একটি বয়সের ব্যবধান রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা আসলে কী চাই বা শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত সেসব বিষয় তারা সবসময় ঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন না। বর্তমানে যারা রানিং শিক্ষার্থী যেমন ২০১৮–১৯ থেকে শুরু করে ২০১৯–২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যদি নেতৃত্ব আসে, তাহলে তারা আমাদের সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বজনপ্রীতির প্রভাব দেখেছি। তাই আমি বলতে চাই, কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্ব বাছাইয়ে যেন কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি না থাকে এবং যোগ্য ও মেধাবীরাই যেন তাদের প্রাপ্য স্থান পায়।

কলেজের আরেক শিক্ষার্থী সাদমান সাজিদ ওয়াসি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে আমরা দেখেছি রানিং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়। তাই আমারও প্রত্যাশা থাকবে যে ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেন রানিং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই গঠন করা হয়।​ অন্য কেউ আসলে তাদের সাথে আমাদের একটি জেনারেশন গ্যাপ থাকে যার ফলে অনেক কিছু তারা হয়তো বুঝতে পারে না। কিন্তু তরুণ ও রানিং শিক্ষার্থীরা আমাদের সমস্যাগুলো সহজে বুঝতে পারবে।

কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিমু আহমেদ বলেন, ছাত্রদলের নেতৃত্ব যদি রানিং শিক্ষার্থীদের থেকে আসে, তাহলে কলেজ শাখা ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। রানিং শিক্ষার্থীরা আমাদের সমস্যাগুলো সহজেই বুঝতে পারবে। কারণ ব্যথাগুলো যেমন তার নিজের সেই ব্যথাগুলোই আমরা জানাতে যাব। 

তিনি আরও বলেন, সাবেক শিক্ষার্থীরা এখন আর শিক্ষার্থী না, তাই তারা সহজে বুঝতে পারবে না বর্তমান শিক্ষার্থীরা কী চায়। তারা ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের থেকে দূরে সরে গেছে। তাই এই ব্যক্তিদের মাধ্যমে খুব ভালো কিছু হবে এমনটা আমরা আশা করছি না।

কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম বলেন, ছাত্রদল দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ সংগঠন। এখানে মেধার পাশাপাশি সংগঠনের জন্য পরিশ্রম, একনিষ্ঠতা, সততা ও দলের প্রতি আনুগত্য সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়। জুলাই আন্দোলনে যারা ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি একটি বড় সংগঠন পরিচালনা করতে গেলে একেবারে জুনিয়র নেতৃত্ব দিয়ে তা চালানো কষ্টসাধ্য। তাই জুনিয়র ও সিনিয়রদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।