বেদখলকৃত ২ হল উদ্ধারে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিল জবি ছাত্রদল
দীর্ঘদিন বেদখলে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল এবং আব্দুর রহমান হল পুনরুদ্ধারে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ব্যানারসহ এক র্যালি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো দখলকৃত অবস্থায় রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আজ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে আমরা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, দখলকৃত হলগুলো পরিদর্শনে বের হই। প্রথমে আমরা আব্দুর রহমান হল পরিদর্শন করি। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, একজন আওয়ামী-সমর্থিত ব্যবসায়ী ভাড়ার বিনিময়ে তার পরিবার নিয়ে অবস্থান করছেন। এছাড়া সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল একজন আইনজীবী (এডভোকেট) হলটি দখল করে ব্যক্তিগতভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।’
তিনি আরোও বলেন, ‘এই ধরনের অবৈধ দখলদারিত্বের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। একই সাথে দখলদারদের প্রতি স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিচ্ছি আগামী ১০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হলগুলো সম্পূর্ণ খালি করে দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।’
বেদখলকৃত হলে অবস্থানরত বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, ‘আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এখানে এসেছি। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের এই হল বেদখল হয়ে যায়। পুরান ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেসে থাকতে হয়। অনেকের মেসে থাকারও টাকা নাই। আমরা চাচ্ছি আমাদের যে হলগুলো বেদখল হয়ে আছে আমরা সবগুলো পুনরুদ্ধার করবো।’
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে দখলকারীদের হল ত্যাগ করার কথা জানান।
ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় দিয়েছি। এরপর আমরা যখন আসবো তারপর আর সময় দিব না। তাদেরকে উচ্ছেদ করে দখলে নিব। কোনো অপশক্তি বা শক্তির কাছে আমরা মাথা নত করবো না।’
হলের বিরুদ্ধে মামলা ও অবস্থান ত্যাগ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে খতিয়ান জালিয়াতি করে এসব হল দখল করা হয়েছে। হলের বিরুদ্ধে তারা মামলা করেছে। আমরা মামলা প্রত্যাহারের কথা বলবো, এতে তারা না মানলে আমরা ভুয়া দলিল বা দখলের যে মামলা আছে তা দায়ের করবো।’
বেদখলকৃত হলের সামনে অবস্থান নিয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, ‘আমরা জগন্নাথের ১৭ টি হল ছিলো। বিগত ফ্যাসিস্টা এসব দখল করেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আবাসন নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট সময় হিসেবে ১০ দিন সময় দিয়েছি। এরপর আমরা আবার চলে আসবো।’