৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৯

খুবিতে শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ, নিরাপদ সড়কের দাবি

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ সমাবেশ  © টিডিসি ফটো

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি শিক্ষকগণও সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার ও সড়ক ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান। চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ঘটনার পরপরই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনো দোষীদের শনাক্ত করা হয়নি। আমাদের দাবি, লাইসেন্সবিহীন সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করতে হবে।

আরেক শিক্ষার্থী তৌকির জোয়ার্দার বলেন, যারা দায়িত্বে আছেন তারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। সঠিক বিচার না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। প্রশিক্ষণহীন চালকদের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে এটি বন্ধ করতে হবে।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ বলেন, আমরা এমন একটি বাস্তবতায় বাস করছি, যেখানে ঘর থেকে বের হলে নিশ্চিত নই ফিরতে পারব কিনা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বলে না। অথচ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে।

মৌমিতার সহপাঠী মেহরাফ হোসেন বলেন, একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেছে। এটি পরিকল্পিত কিনা তাও স্পষ্ট নয়। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচার নিশ্চিত করা হোক।

আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক তানিয়া সুলতানা বলেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, একটি প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি কীভাবে রাস্তায় চলে তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে হবে। আমরা আর কোনো মৌমিতাকে হারাতে চাই না।

ডিসিপ্লিন প্রধান পুনম চক্রবর্তী বলেন, পিতামাতার কাঁধে সন্তানের লাশ এবং শিক্ষকের কাঁধে শিক্ষার্থীর লাশ এটাই সবচেয়ে ভারী বোঝা। আমরা রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার চাই। গল্লামারি মোড়ে নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।

ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত বলেন, সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা চলছে। অননুমোদিত যানবাহন বন্ধ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, এই ধরনের ঘটনা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। আমি শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। তোমরা সোচ্চার থাকলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। খুবির শিক্ষার্থীরা সচেতন থাকলে তা পুরো নগরবাসীর জন্যও কল্যাণকর হবে।