সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কলেজ ছাত্রদল নেতার হামলা, রক্তাক্ত শিক্ষার্থী
গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ-এ বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক কনসার্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে কলেজ ছাত্র সংসদ কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী পাভেল (২৫) কলেজটির ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের নিয়মিত ছাত্র। তিনি গাজীপুরের ইটাহাটা এলাকার বাসিন্দা বদিউজ্জামান বদির ছেলে।
আহত শিক্ষার্থীর প্রতিবেশী ইফতির দাবি, বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ কনসার্ট’ নামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফুর রহমান আবির চাইনিজ কুড়াল দিয়ে পাভেলের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে পাভেলের হাতের রগ কেটে যায় এবং মাথায় আঘাত পান বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করান।
আহত পাভেল অভিযোগ করেন, কলেজ ছাত্র সংসদ এলাকায় কয়েকজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল। তিনি বাধা দিলে পূর্বের ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান নামধারী কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফুর রাহমান আবিরের নেতৃত্বে ১৫–২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কক্ষে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। আবির বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের র্যাগিং ও ছাত্রীদের ইভটিজিং করছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরিফুর রহমান আবিরকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি ব্যস্ত আছি কলেজে আসেন। এরকম অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত আসে। কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য নেন। তদন্ত করেন।’
এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, ‘হাতের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। নারী সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোটরসাইকেলের চাবির আঘাতে পাভেল মাথা ও হাতে আঘাত পেয়েছেন।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে বিরোধের জেরে মোটরসাইকেলের চাবির আঘাতে একজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হাতের রগ কেটে যাওয়ার বিষয়টি পুলিশের কাছে নিশ্চিত নয়।’