‘চাকরির বয়স ৪০ বছর, এই প্রথম কোনো শিক্ষার্থীর হাতে আমাকে মার খেতে হলো’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সহায়ক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনকে চেয়ার দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমদের বিরুদ্ধে।
মারধর বিষয়ে ভুক্তভোগী কর্মচারী নিজেই সাংবাদিকদের কাছে বর্ণনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনানের সামনে চেয়ার দিয়ে মারধর ও চড়থাপ্পড়-লাথি মারেন জবি ছাত্রদল নেতা জাফর আহমেদ।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, ‘ভিসি ভবন থেকে শান্ত চত্ত্বরে তাকিয়ে দেখি জবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাফর ভাই ক্যাম্পাসের কর্মচারী নিজাম ভাইকে ইচ্ছামতো চড়, থাপ্পড় এবং চেয়ার দিয়ে মারছেন। তারপর আবার দেখি প্রক্টর অফিসের সামনে হইচই। কাকে ধরে এনে ভিসি ভবনের মধ্যে ঢুকানো হলো এবং অনেকক্ষণ তর্ক-বিতর্ক দেখলাম। ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিমেল ভাই নিজেদের সমস্যা বলায় আমরা সেটা থেকে দূরে থাকি।
এ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল গণিত বিভাগের সামনে চড় থাপ্পড় ও লাথি দিতে দিতে থাকে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ। শহীদ মিনারে সামনে রাখা প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে আমাকে মারধর করে। এই সময় হিমেল ভাইও উপস্থিত ছিলেন। মারতে মারতে চেয়ার ভাইঙ্গা ফেলাইলো। ভাস্কর্য চত্বরের সামনে আসলে আবার পেটে লাথি মারে। আল্লাহর কাছে বিচার দিছি। আপনারা আমাগো মারেন, আমরা তো আর আপনাগো মারতে পারমো না। আমগো গরীবের বিচার করবে আল্লাহ। আমি নাকি আওয়ামী লীগ সময় আওয়ামী লীগ করছি, আওয়ামী লীগের দোসর।
আমাকে বলে, তুই ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবি না। আমার চাকরির বয়সই ৪০ বছর। ওর বয়সই ৪০ বছর হয়নি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী। যে দায়িত্বে আসবে, তাদের অধীনে আমাদের কাজ করতে হয়।’
নিজাম উদ্দিন আরও বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে জাফর আমাকে ফোন দিয়ে রায়সাহেব বাজারে দেখা করতে বলে। আমি সমিতির অফিসে এসে দেখা করতে বলাতেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। পরের দিন সমিতির রুমে এসে আমাকে ঘিরে ধরে গালাগাল করতে থাকে। আমাকে বলে ক্যাস্পাসে না আসতে। আমার এক মেয়ে কলেজে পড়ে, আরেক ছেলে জগন্নাথে ভর্তি পরীক্ষা দিছে। এই প্রথম কোনো শিক্ষার্থীর হাতে মার খেতে হলো।’
এ বিষয়ে সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, ‘নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনেই এই ঘটনা ঘটলো। জগন্নাথের ইতিহাসে এভাবে কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনা আর ঘটেনি। অফিস খুললে বিষয়টি আমরা উপাচার্যকে অবহিত করব।
অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ বলেন, “মারধরের অভিযোগটি সত্য নয়। মূলত কর্মচারী নিজামসহ কয়েকজন অনেক আগে আমাদের মিছিলে লাঠি নিয়ে হামলা করেছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই গতকাল ভিসি স্যারের দপ্তরে যাওয়ার সময় সামান্য কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।”