১৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:২২

ঈদের ছুটিতে বাড়ির পথে শিক্ষার্থীরা, ফাঁকা হচ্ছে খুবি ক্যাম্পাস

ফাঁকা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস  © টিডিসি

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট আর বন্ধুদের আড্ডায় মুখর থাকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস। তবে ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে সেই পরিচিত ব্যস্ততা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন নীরব পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৪ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, অর্থাৎ মোট ২৩ দিনের এই দীর্ঘ ছুটি ঘিরে আগেভাগেই অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছেন।

ক্যাম্পাসের চেনা দৃশ্যগুলোও যেন বদলে গেছে। ফাঁকা হয়ে এসেছে ক্যাফেটেরিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের আড্ডা। সন্ধ্যা নামলেই যে হল রোডে শিক্ষার্থীদের হাঁটাচলা ও ব্যস্ততা দেখা যেত, এখন সেখানে নেমে এসেছে নীরবতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও বিভিন্ন হলের রিডিং রুমেও নেই আগের মতো পড়াশোনার গুনগুন শব্দ।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ক্যাম্পাসের ধর্মীয় ও আবাসিক স্থানগুলোতেও। কেন্দ্রীয় মসজিদ ও বিভিন্ন হলের মসজিদে এখন আর আগের মতো শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায় না। অনেক হলের ক্যানটিনও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পুরো ক্যাম্পাসেই যেন এক ধরনের নির্জনতা বিরাজ করছে।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাফিউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার আনন্দই আলাদা। তাই ছুটি পেলেই সবাই বাড়ির পথে রওনা হচ্ছে। তবে কেউ কেউ আবার টিউশন, চাকরির প্রস্তুতি বা দূরত্বের কারণে এবারও ক্যাম্পাসেই থেকে যাচ্ছে।’

অন্যদিকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মীরাও লক্ষ্য করছেন এই পরিবর্তন। খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ হলের নিরাপত্তাকর্মী মো. আসিফ বলেন, ‘মামারা প্রায় সবাই বাসায় চলে গেছে। কয়েকজন আছেন, তারাও হয়তো চলে যাবেন। সন্ধ্যার পর হল চত্বরজুড়ে এখন নীরবতা বিরাজ করে। দোয়া করি মামারা যেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে সুস্থভাবে আবার ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেন।’

সব মিলিয়ে ঈদের ছুটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার এই যাত্রায় ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে উঠছে খুবি ক্যাম্পাস। কয়েক দিনের এই নীরবতার পর ছুটি শেষে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য।