১৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫

ফাঁড়ি আছে নেই পুলিশ, নিরাপত্তাহীনতায় ববি শিক্ষার্থীরা

পুলিশ ফাঁড়ি ও ববির লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পুলিশ ফাঁড়ি কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য থাকা এই ফাঁড়িতে নিয়মিত পুলিশ টহল ও তদারকি না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটভূমি পরিবর্তনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত এ পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো পুলিশ সদস্য নিয়মিত কর্মরত নেই। ফলে ফাঁড়ির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পে পুলিশ সদস্য না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগত লোকজনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে পুলিশের অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো পুলিশ সদস্য নেই, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কনসার্ট বা প্রোগ্রামে বাইরে থেকে মানুষ আসে। যদি কোনো ঝামেলা হয় বা রাতে শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যায় পড়ে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ না থাকায় বুধবার রাত (১২ মার্চ) ২টা ৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট (ঢাকা-ভোলা মহাসড়ক) থেকে সাতজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যায়। পরে প্রায় ভোর ৪টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর শিক্ষার্থীরা জানান, তারা কোনো কারণ ছাড়ায় আমাদের তুলে নিয়ে যায়। পরিবর্তনে আমাদের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে ও তুই-তোকারি করে। এক পর্যায় লাঠি বের করে মারার জন্য তেড়ে আসে। আমরা আইডি কার্ড দেখানোর পরও তারা বিশ্বাস করেনি।

তাদের অভিযোগ, জিরো পয়েন্ট (লাহারহাট যাওয়ার রাস্তায়) ভোর ৪টায় তারা তাদের ছেড়ে দেয়। তখন তারা একটি ভ্যান গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু গাড়িচালক বা অন্যরা বলেছিলেন, ‘হেঁটে হেঁটে যাবি তোরা’। 

হাসান মাহবুব নামের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলে শিক্ষার্থীরা এরকম হয়রানির শিকার হতো না। সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। তারা আমাদের বলে, রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কী কাজ। আমি বলেছিলাম, হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় বাহিরে খেতে বের হয়েছিলাম। এবং তাদের সকল প্রশ্নের জবাব ও তথ্য প্রমাণ দেওয়ার পর তারা তা মানতে চাইনি।’

এ বিষয় ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আব্দুল গণি বলেন, রাত দুইটার সময় তারা বাহিরে ছিল। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এখন বাহিরে কি। তারা বলেছে চা খেতে বের হয়েছে। কিন্তু তখন কোনো দোকান খোলা ছিল। তাদের কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আইডি কার্ড দেখাতে পেরেছে। তাদের বলা হয়েছে রুমে চলে যেতে তারা না গিয়ে আরো একটু দূরে আরেকটা দোকানে গিয়ে বসেছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে তাদের তুলে আনা হয়েছিল। পরিবারের কাছে ফোন করা হয়েছে। তবে তাদের গায়ে কোনে লাঠি চার্জ করা হয়নি। 

পুলিশ ফাঁড়ি কার্যকর না থাকা বিষয়টি জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে গত বৃহস্পতিবার ওয়াটসাপে একাধিক কল ও ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমরা এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছি, যেন আমাদের ক্যাম্পাসে পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। ওই সময় ফোর্সের সংকটের কারণে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আমরা আবারও অনুরোধ করব এবং পুনরায় চিঠি দেব। আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।’