১৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৫

খুবিতে আজ শোক দিবস: স্মরণ করা হচ্ছে কটকা ট্রাজেডির শহীদদের

কটকা ট্রাজেডিতে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীরা   © টিডিসি সম্পাদিত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়ের নাম কটকা ট্রাজেডি। ২০০৪ সালের ১৩ মার্চ সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকতে ভাটার তীব্র স্রোতে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ১১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর ১৩ মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন করা হয়।

ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের ৯ জন শিক্ষার্থী তৌহিদুল এনাম (অপু), আব্দুল্লা হেল বাকী, মো. মাহমুদুর রহমান (রাসেল), কাজী মুয়ীদ ওয়ালি (কুশল), মো. আশরাফুজ্জামান (তোহা), আরনাজ রিফাত (রূপা), মাকসুমমুল আজিজ মোস্তানী (নিপুণ), মোহাম্মদ কাউছার আহমেদ খান ও মুনাদিল রায়হান বিন মাহবুব (শুভ) এবং বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী শামসুল আরেফিন শাকিল ও সামিউল হাসান খান প্রাণ হারান।

তাদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা হয়েছে কটকা স্মৃতিস্তম্ভ। একইসঙ্গে ১৩ মার্চকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ১২ মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের ৭৮ জন শিক্ষার্থী ও তাদের ২০ জন অতিথি লঞ্চযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পরদিন সকালে তারা বাদামতলী এলাকায় পৌঁছান এবং পরে কটকা সমুদ্র সৈকতে যান। সেখানে সমুদ্রের পানিতে নামার পর হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী ভাটার তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে। অনেককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত ১১ জনকে আর বাঁচানো যায়নি।

এ মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এ বছরও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় কটকা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং সন্ধ্যায় এতিমদের সঙ্গে ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন।