০৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৪

শিক্ষক হত্যার ঘটনায় ইবি প্রশাসনের একদিনের শোক

সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা ও ইবি লোগো   © সংগৃহীত

নিজ বিভাগের অফিস কক্ষে কর্মচারীর হাতে প্রাণ হারানো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় একদিনের শোক ঘোষণা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, গত ৪ মার্চ বুধবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তাঁর নিজ অফিস কক্ষে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এই মর্মে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী শনিবার (৭ মার্চ) একদিনের শোক ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলকে কালো ব্যাজ ধারণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। 

এছাড়াও নিহত শিক্ষিকার রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিস কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা কে গলা কেটে হত্যা করে কর্মচারী ফজলুর রহমান৷ পরবর্তীতে সে নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। নিহত শিক্ষিকার চিৎকারে ভবনে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া কে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। অভিযুক্তরা হচ্ছেন - কর্মচারী ফজলুর রহমান, সাবেক কর্মচারী উপ রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কুষ্টিয়া শহরের পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়ার জানাজা শেষে পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্তানে সমাহিত করা হয়। নিহত শিক্ষিকা ব্যক্তিগত জীবনে চার সন্তানের জননী। তাদের প্রথম সন্তানের বয়স ১১ বছর, দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ৯ বছর, তৃতীয় সন্তানের বয়স দেড় বছর এবং তাদের সবচেয়ে ছোট বাচ্চার বয়স ৬ মাস।  স্বামীর সাথে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পাশেই একটি বাসায় বসবাস করতেন রুনা।