০৫ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪১

খুবি’র কেন্দ্রীয় মাঠে ইফতারের আবহে সম্প্রীতির মিলনমেলা

খুবির কেন্দ্রীয় মাঠে ইফতার   © টিডিসি ফটো

পবিত্র রমজান উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাঠটি এখন অন্যতম প্রধান ইফতারস্থলে পরিণত হয়েছে।

কেবল ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরাই নন বরং শহরের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে অনেক পরিবারও এখানে মাদুর পেতে ঘরোয়া পরিবেশে ইফতার করছেন। বন্ধুদের নিয়ে খোলা জায়গায় ইফতার করার এই প্রবণতা মাঠের পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর করে তুলেছে।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রুহিলা চিঙ মারমা বলেন, 'কয়েক শ' সহপাঠীর সাথে সবুজ ঘাসে বসে ইফতার করা সম্পূর্ণ অন্যরকম এক অনুভূতি। শুরুতে খুব একা লাগত, কিন্তু সেন্ট্রাল ফিল্ডে যখন সিনিয়র ভাইরা নিজেদের প্লেট থেকে ইফতারি তুলে দেন, তখন মনে হয় না যে আমি পরিবার থেকে দূরে আছি। এই মাঠ আমাদের কাছে এখন এক টুকরো খোলা আকাশ আর এক বিশাল পরিবার।'

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইউসুফ আহম্মেদ বিপ্লব জানান, 'চার বছর ধরে এই সেন্ট্রাল ফিল্ড আমাদের কত হাসিকান্নার সাক্ষী! ইফতারের আগে সবাই মিলে গোল হয়ে বসে মুড়ি মাখানোর সেই মুহূর্তগুলোই আসলে ক্যাম্পাসের প্রকৃত শিক্ষা। ডিসিপ্লিনের এই ইফতারিগুলো আমাদের একে অপরের কাছাকাছি এনেছে। এখান থেকে পাশ করে চলে গেলেও হয়তো রমজান এলে সবচেয়ে বেশি মিস করব এই মাঠ আর বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নেওয়া সেই এক গ্লাস শরবত।'

সূর্য ডোবার ঠিক আগ মুহূর্তে যখন আকাশ জুড়ে গোধূলির আভা ছড়িয়ে পড়ে, তখন পুরো সেন্ট্রাল ফিল্ডে এক প্রশান্ত নীরবতা নেমে আসে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত মোনাজাত এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। আজানের ধ্বনি শোনার সাথে সাথেই শুরু হয় ইফতার। শরবতের গ্লাসে চুমুক আর খেজুরের মিষ্টি স্বাদে সারাদিনের ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়। এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, ইফতার কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম।