০৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৭

শিক্ষক হত্যার এজাহারে নিজের নাম আসার প্রেক্ষিতে যা বললেন ইবি শিক্ষক

অভিযুক্ত শিক্ষক   © টিডিসি ফটো

নিজ বিভাগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ইবির শিক্ষিকাকে হত্যার পরে ঐ কক্ষেই নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান। 

প্রিয়তম স্ত্রী কে হারিয়ে শোকে পাগল প্রায় নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে আসার পরপরই শিক্ষক আসমা সাদিয়া কে মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এরপরই শোকে মুহ্যমান হয়ে যান সবাই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সমবেদনা জানাতে গেলে বিভাগের দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ। এছাড়াও আজ (৫ মার্চ) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় উপস্থিত হয়ে কর্মচারী ফজলু সহ বিভাগের দুই শিক্ষক ও সাবেক কর্মচারী সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। 

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন বিভাগের অপর সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। আজ সকালে বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে হত্যার বিচার দাবিতে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের অবস্থান জানান তিনি। 

সহকারী অধ্যাপক হাবিব বলেন, আমার নামে মামলা হওয়ার পিছনে কারণ হতে পারে, তার পরিবার এখন সংক্ষুব্ধ। বিভাগে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিলো, সেশনজট ছিলো। আমি আসার পর থেকেই বিভাগের পরিবেশ, শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ম্যাডামকে সাপোর্ট দিয়েছি যে ম্যাডাম আপনি আগান, আমরা আছি। যদি বিভাগে মিল না থাকতো, ঐক্যতা না থাকতো তাহলে একাডেমিক পরিবেশ এতো সুন্দর করা সম্ভব না। 

'এখন মামলা হয়েছে, আমি বা আমরা কলিগ, মামলা করেছে ম্যাডামের পরিবার। এখন তারা যদি আমার নাম ঢুকায় এখানে আমার তো কিছু বলার থাকে না। আমি তো এই বিভাগেরই শিক্ষক। যদি বিভাগের বিষয়ে কোন অসন্তুষ্টির বিষয়ে তিনি বাসায় শেয়ার করে থাকেন তাহলে তো আমি বিভাগের বাইরে কেউ না, তবে আমার মনে হয় যে নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটেছে তা প্রকাশ্য দিবালোকে, এখানে তো আড়ালের কিছু নাই' যুক্ত করেন হাবিব। 

এজাহারে তাকে চতুর্থ আসামি করার ব্যাপারে বলেন, আমাকে ৪ নম্বর দিক আর ১ নম্বর সেটা বিষয় নয়, ম্যাডাম তো নাই আমাদের মাঝে এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয়। আজ যদি ম্যাডাম থাকতেন তাহলে এই কথাগুলোর জাস্টিফিকেশন উনি নিজেই দিতেন। আমি একজন অভিভাবক এবং একজন মানুষ হিসেবে বলতে চাই যে নৃশংস হত্যাকান্ড হয়েছে তার সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং প্রকাশ্যে বিচার হোক। উপরে আল্লাহ তায়ালা তো আছেন, যদি আমি সত্যিকার অর্থে এর সাথে জড়িত থাকি তাহলে আমারও বিচার হোক।