০৩ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩১

ভারতে ট্রেনযাত্রায় অচেতন উদ্ধার, বাকৃবি শিক্ষার্থী কলকাতার আইসিইউতে

তানিউল করিম জীম  © সংগৃহীত

ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে কলকাতা ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে নিখোঁজ হন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী তানিউল করিম জীম। প্রায় ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার পর উদ্ধার করা হয় তাকে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গত রবিবার (১ মার্চ) ট্রেনের টয়লেট থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করার পর বর্তমানে তিনি কলকাতার মনিপাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত এই মেধাবী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন।

তানিউল করিম জীম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের স্নাতকোত্তর থিসিসের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতায় অত্যন্ত সক্রিয় এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল ভিসায় চাচার সঙ্গে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যান জীম। গত ১ মার্চ সকালে তারা ব্যাঙ্গালুরু থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে ট্রেনে রওনা হন। যাত্রাপথের এক পর্যায়ে জীম হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ট্রেনের একটি টয়লেট থেকে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ট্রেনটি কলকাতায় পৌঁছালে দ্রুত তাকে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান রিপোর্টে তার মাথার পেছনে গুরুতর জখমের চিহ্ন ধরা পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মনিপাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো জীমের জ্ঞান ফেরেনি। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে এবং জ্ঞান ফিরলে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে হাসপাতালে জীমের সাথে শুধুমাত্র তার চাচা অবস্থান করছেন।

এই সংকটময় মুহূর্তে জীমের পাশে থাকতে পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভিসা জটিলতায় তারা এখনো দেশ ত্যাগ করতে পারেননি। জীমের ছোট ভাই তানিউল করিম মিম দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিসার ব্যবস্থা করতে ভারতীয় হাই কমিশন ও বাংলাদেশ সরকারের জরুরি সহায়তা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে যেন তাদের দ্রুত ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

এদিকে জীমের এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় তার সহকর্মী, শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষার্থীদের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। একই সাথে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।