ক্যাম্পাসজুড়ে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মশার উপদ্রব বাড়তে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, মশার অস্বাভাবিক বিস্তারের অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক স্থান ও আবাসিক হলের আশপাশে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় সেখানে তৈরি হয়েছে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র। পচনশীল আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, যা পুরো ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিকেলের পরপরই আবাসিক হল, ডরমিটরি, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে মশার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। তবে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা নিধনে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
দোলনচাঁপা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, সম্প্রতি মেয়েদের দোলনচাঁপা হলে মশার অস্বাভাবিক উপদ্রব চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বেসিন, ওয়াশরুম ও কক্ষগুলোতে মশার আধিক্যে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সন্ধ্যার পর পড়াশোনা বা বিশ্রাম নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অগ্নিবীণা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘মশার উপদ্রব এখন সারা বছরব্যাপী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডাইনিং হল, রিডিং রুম, নামাজঘরসহ প্রায় সব জায়গায় মশার উৎপাত চরম আকার ধারণ করেছে। ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। হলের আশপাশে ঘন ঝোপঝাড় ও অপর্যাপ্ত পরিচর্যার কারণে জমে থাকা ময়লাও মশার আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।’
বিদ্রোহী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অংকন দেবনাথ জানান, রিডিং রুমে যখন সবাই পড়তে বসি তখন মশার উৎপাতে নিজের তো সমস্যা হয়ই, সাথে থাকা অন্যজনেরও মনোযোগে সমস্যা হয়। কিছুদিন যাবত ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ কয়েকজনের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় যখন সবাই মিলে বাহিরে ইফতার খাওয়ার জন্য বসা হয় বা আড্ডাতে। অতি দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের আশা করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রবের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো যায়। আমিও ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করব। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।’