চালক সংকটের কারণে বাস বন্ধ, ভোগান্তিতে কুবি শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চালক সংকটের কারণে তিনটি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যাতায়াতের নির্ধারিত শিডিউল ভিত্তিক বাসে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীকে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর পরিবহন সংকট নিরসন ও বাস সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের পর প্রশাসনের উদ্যোগে বিআরটিসি'র দুইটি নতুন ডাবল ডেকার বাস ভাড়া নেওয়া হয়। ভাড়া বাসসহ পূর্বের বাসগুলো নিয়মিত চলাচল করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ম. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বরাদ্দকৃত জেলা প্রশাসক কর্তৃক নতুন ক্রয়কৃত তিনটি বাস চালক সংকটের কারণে এখনো কার্যত চালু করা সম্ভব হয়নি।
ফলে বর্তমানে পর্যাপ্ত বাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত শিক্ষার্থী যাতায়াত করায় ভোগান্তি বাড়ছে।
বাস সিডিউল ব্যবস্থাপনা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সন্ধ্যায় শহর থেকে মাত্র একটি বাস ক্যাম্পাসে আসার ফলে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। এমনকি সব বাস সচল থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বাসের ধারণ ক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি শিক্ষার্থীকে যাতায়াত করতে হয়। ফলে, নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে পরিবহন পুলের সমস্যাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
রোজার মাসে দুপুরের তপ্ত রোধে অতিরিক্ত যাত্রী যাতায়াতের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নতুন দুইটি ডাবল ডেকার বাস সংযুক্ত করায় বর্তমান উপাচার্যের প্রশংসা করার পাশাপাশি নতুন বাস যুক্ত হলেও সেগুলো নিয়মিত চলাচল শুরু না করায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ভেঙেছে। এর ফলে ক্লাস ও পরীক্ষার সময়মতো উপস্থিত হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন অনেকেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক ম. মোসারফ হোসেন ভূইয়া জানান, চালক সংকটই বর্তমানে প্রধান সমস্যা। বিদ্যমান চালকদের দিয়ে অতিরিক্ত সার্ভিস পরিচালনার চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ টি বাহনের জন্য ২৪ জন চালক রয়েছে। নতুন বাসগুলো নিয়মিত করতে প্রতি বাসের জন্য চালক ও হেল্পারসহ ২ জন করে স্টাফ প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, নতুন চালক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে চালক নিয়োগ দেয়া পর্যন্ত ব্যালেন্স করে বাসগুলো চালু করা হবে নাহলে বাসের ইঞ্জিন বসে যেতে পারে।
রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা ইউজিসির কাছে পদ চেয়ে আবেদন করেছি। যদি তারা অনুমোদন দেয় তাহলেই নতুন চালক নিয়োগ দেয়া যাবে।
উল্লেখ্য, এবছরের ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে নতুন তিনটি বাসটি যুক্ত করা হয়। চালক সংকটের কারণে সেগুলো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে ড্রাইভার সংকট দ্রুত সমাধান করে বাসগুলো চালু করার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের।