২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০১

সাজিদ হত্যার ৬ মাস ৯ দিন, বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাজিদের সহপাঠীরা। 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কিছুক্ষণ পরে এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে উপস্থিত হন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন ও ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের অপু বলেন, ‘বিচার হচ্ছে না নাকি বিচার করতেছে না তা দেখতে হবে। আমার সন্দেহ হয় যে হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রশাসনও আছে কি না। সাজিদ হত্যার যদি বিচার না হয়, তাহলে আমরাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তারও বিচার হবে না। এখানে কেওই নিরাপদ না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে আপনারা পদত্যাগ করেন। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে, আপনারা তাদেরও নিরাপত্তা দিতে পারেন না। আপনাদের রেখে তাহলে লাভ কী? আপনারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঢিলেমি করতেছেন। অতিদ্রুত যদি বিচার করুন, নইলে শিক্ষার্থীদের পাশে নিয়ে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।’

সাজিদের সহপাঠী আহমাদ উল্লাহ বলেন, ‘বলতে লজ্জা লাগে ৬ মাস পরেও আমাদের ভাই হত্যার বিচার চেয়ে কর্মসূচি দিতে হয়। আজ পর্যন্ত প্রশাসন খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি। এটা অথর্বতা নাকি দায়? এই হত্যার সঙ্গে তারা কী তারাও জড়িত? যে কারণে তারা গড়িমসি করছে। সাজিদের মতো শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা চেয়ারে বসেছেন। আপনাদের চেয়ার থেকে নামাতে আমাদের সময় লাগবে না। যদি আপনারা বিচার করতে না পারেন, তাহলে কঠিন থেকে কঠিনতম কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমাদের যেন আর কোনো কর্মসূচি দিতে না হয়, প্রশাসনের সামনে দাঁড়াতে না হয়।’

শাহরিয়ার রশিদ নিলয় বলেন, ‘ছয় মাস আগে সাজিদ ভাইকে হলের পুকুরে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। আমাদের বাবা মা পাঠিয়েছে পড়াশোনা করতে কিন্তু আমাদের লাশ হতে হয়। ইতোপূর্বেও অনেকবার দাবি জানানো হয়েছে কিন্তু প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয়নি৷ আপনারা কার ভয়ে বিচার করতে পারছেন না? ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আমরা যেভাবে নামিয়েছি, সেভাবেও আপনাদের নামাতে বাধ্য হব। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করুন।’

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই শুনে আসছি খুনিদের মুখোশ উন্মোচন হবে কিন্তু কবে হবে, কীভাবে হবে তা আমরা জানি না। আমরা সোচ্চার হলে আমাদের বলা হয় রিপোর্ট আসতেছে, কিন্তু তা কীভাবে আসতেছে তাও আমরা জানি না। আমরা সাজিদের হত্যার বিচার চাই। এ রহস্য উন্মোচন না হলে আমরা কেওই নিরাপদ না। সাজিদের মতো পরিণতি ভোগের তাড়না যদি আমাদের মধ্যে থাকে তাহলে প্রশাসনের কাছে আমরা আর কী দাবি জানাব। কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এটা প্রকাশিত হচ্ছেনা তা আমাদের বলুন, আমরা এর জবাব দিতে পারি।’

শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ অনেক গুণে গুণান্বিত ছিলেন, সে কুরআনের হাফেজ ছিলেন, যা হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। লাশ উদ্ধারের পর বিভিন্ন ধাপে তদন্তে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকাণ্ডই চলছে শুধু আমাদের ভাই সাজিদ নেই। এই ছয় মাসে অনেক নয়-ছয় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, এটা আর চলতে দেওয়া হবে না। নসরুল্লাহ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই, আপনার ব্যর্থ প্রক্টরকে আগামীকাল বিকাল ৪টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে অন্যথায় আপনি তাকে অপসারণ করবেন। যদি আগামীকাল বিকালের মধ্যে প্রক্টর পদত্যাগ না করে কিংবা আপনি অপসারণ না করেন সে ক্ষেত্রে আগামী বুধবার বেলা ১১টায় আপনার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।’