জীবনের ১১ বছর চলে গেছে বিসিএসের পেছনে, সুপারিশ পেয়েও গেজেটে নাম নেই শফিকুলের
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় দর্শন বিষয়ে মেধাক্রমে ২৫তম হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিসিএসের পেছনে জীবনের ১১ বছর ব্যয় করেছেন। পাঁচটি ঈদ পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারেননি। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকার পরও গেজেট থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম গেজেটে স্থান পায়নি।
বাদ পড়া প্রার্থীদের একজন শফিকুল ইসলাম। তিনি ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে দর্শন বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তার মেধাক্রম ছিল ২৫তম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার জেলা গোপালগঞ্জ।
শফিকুল বলেন, ৩৭তম বিসিএস থেকে তিনি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শুরু করেন। ৩৮তম, ৪১তম ও ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। ৪১তম ও ৪৯তম বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। ৪৯তম বিসিএস ছিল তার শেষ বিসিএস। সেখানে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি।
নিজের দীর্ঘ প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে শফিকুল বলেন, ‘আমি ৩৭তম থেকে বিসিএস দেওয়া শুরু করি। ৪৯ ছিল আমার শেষ বিসিএস। ৩৮, ৪১ ও ৪৩তম বিসিএসের রিটেন দিয়েছি। ৪১ ও ৪৯তম বিসিএসে ভাইভা দিয়েছি। ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। এটা আমার শেষ বিসিএস ছিল। এই বিসিএসের পেছনে আমি আমার জীবনের ১১টা বছর ব্যয় করেছি।’
দীর্ঘ প্রস্তুতির সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিসিএসের জন্য জীবনে যে কত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। পাঁচটা ঈদ বাড়িতে যেতে পারিনি। মা-বাবার সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রযন্ত্র আমাকে এত বড় শাস্তি দেবে, আমি কোনোদিন কল্পনাও করতে পারিনি।’
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় না থাকার দাবি করে শফিকুল বলেন, ‘আমার কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে ইনভলভমেন্ট ছিল না। আমার কোনো ধরনের মামলা নেই। ফৌজদারি হোক বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো মামলা নেই। আমার বাপ-চাচা, চাচাতো ভাই-ব্রাদার কেউ কখনো কোনো রাজনীতির সঙ্গে ইনভলভমেন্ট ছিল না। আমারও ছিল না। কেউ কখনো রাজনীতি করেনি। কিন্তু আজকে আমার কী অবস্থা, দেখেন।’
এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। সে সময় শিক্ষা ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনীত করা হয়েছিল। বাকি ১৫টি পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় কাউকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল কমিশন।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার ৫৭ জনকে বাদ রেখে অবশিষ্ট ৬১১ জনের চূড়ান্ত নিয়োগ নিশ্চিত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে শফিকুলসহ বাদ পড়া প্রার্থীদের গেজেটে নাম না থাকার নির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।