বিসিএসে উত্তীর্ণ রুয়েটের ২৮ শিক্ষার্থীর ২৬ জনই পুলিশ-প্রশাসন ও অন্যান্য, প্রকৌশলে মাত্র ২
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২৮ জন শিক্ষার্থী ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত ২৮ জুন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রুয়েট থেকে মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৭ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৬ জন, কর (ট্যাক্স) ক্যাডারে ৪ জন, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ৪ জন, শুল্ক ও আবগারি (কাস্টমস) ক্যাডারে ৩ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২ জন এবং রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারে ২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এসেছে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ থেকে— এখানে ১০ জনের নাম সুপারিশ তালিকায় রয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) থেকে ৪ জন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ৫ জন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ৩ জন, এবং ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই), আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি), ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই), গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (জিসিই) ও মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এমটিই) বিভাগ থেকে প্রত্যেকে ১ জন করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
রুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র হাসান মাহমুদ তুর্য্য। তিনি পুলিশ ক্যাডারে জাতীয় মেধাক্রমে ৩য় স্থান অর্জন করেছেন। এছাড়া একাধিক রুয়েট শিক্ষার্থী পূর্ববর্তী বিসিএসেও সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে ধারাবাহিক সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতি ও সক্ষমতার প্রতিফলন বলে অনেকে মনে করছেন।
রুয়েটের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রসঙ্গে টানা তিন বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাঈম কবির বলেন, বিসিএসে ভালো করতে হলে নিজের একটি কার্যকর প্রস্তুতির কৌশল (টেকনিক) তৈরি করে সেটির ধারাবাহিক বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো নিয়ে নিয়মিত কাজ করতে হবে। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় লেখার ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই লেখার স্টাইলের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি দরকার ধৈর্য। কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না।
এই সাফল্যে রুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও রুয়েটের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, কূটনীতি, রাজস্ব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত রাখবেন। একই সঙ্গে এবারের এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বিসিএসসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ১ হাজার ৩২০ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে এবং ২০১ জনকে নন-ক্যাডার পদে, অর্থাৎ মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল; বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৩ হাজার ৬৮৮টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার পদ এবং ২০১টি নন-ক্যাডার পদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ক্যাডার পদগুলোর মধ্যে প্রশাসনে ২০০, পুলিশে ১০০ এবং কৃষি ক্যাডারে ১৬৮টি পদ ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল।
পরীক্ষা প্রক্রিয়াও কয়েক ধাপে চলে— ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মোট ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষা ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হন; তাদের মধ্যে সাধারণ ক্যাডারে ২ হাজার ৫৭০ জন, সাধারণ ও কারিগরি/পেশাগত উভয় ক্যাডারে ৭৬৩ জন এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারে ২৯৮ জন ছিলেন।