বিসিএসই যাদের ধ্যান-জ্ঞান, তারা জাস্ট কটা দিন দাঁতে দাঁত কামড়ে টেবিলে থাকুন
৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পর যারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ৪৭তম বিসিএসে অ্যাডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মারিয়া সুলতানা জেনিন। তিনি বলেছেন, ‘বিসিএসই যাদের ধ্যান-জ্ঞান, তারা জাস্ট আর কটা দিন দাঁতে দাঁত কামড়ে টেবিলে থাকুন।’সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে বিসিএসপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে বিভিন্ন পরামর্শ দেন তিনি।
মারিয়া সুলতানা জেনিন বলেন, ‘বিসিএস একটি চাকরি মাত্র, তবে অন্য অনেক চাকরির তুলনায় এখানে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে নিজের অবস্থান ও বয়স বিবেচনা করে পরিকল্পনা সাজানো উচিত।’
পোস্টে মারিয়া সুলতানা জেনিন বলেন, ‘আমাদের একটা জীবন কেটে যায় মানুষ কী বলবে এটা ভাবতে ভাবতেই। চাকরি যাই হোক না কেন, সমাজের মানুষের সমালোচনা থামে না। তাই অন্যের কথায় হতাশ না হয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।’
তার মতে, যাদের বয়স ২৮ বছরের বেশি এবং কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েও এখনো চাকরি হয়নি, তাদের শুধু বিসিএসকে কেন্দ্র করে না থেকে ব্যাংক, পেট্রোবাংলাসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতিও নেওয়া উচিত। প্রতিবছর ব্যাংক খাতে বড় পরিসরে নিয়োগ হচ্ছে। নিয়মিত ছয় থেকে সাত মাস পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিলে সেখানে চাকরি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত এমসিকিউ পরীক্ষা দিয়ে নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠারও পরামর্শ দেন তিনি।
মারিয়া সুলতানা জেনিনের ভাষায়, চাকরি পাওয়ার জন্য অসাধারণ মেধাবী হওয়া জরুরি নয়, প্রয়োজন সঠিক পথে পরিশ্রম করা। যারা আজ সমালোচনা করছেন, চাকরি হলে তারাই অভিনন্দন জানাবেন। তবে যারা বিসিএসকেই একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন, তাদের জন্য আলাদা বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যারা বিসিএসই একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান, তারা জাস্ট এটা ভাবেন, অনেক তো কষ্ট করলেন, আর কটা দিন। একটু ধৈর্য ধরে দাঁতে দাঁত কামড়ে টেবিলে বসে থাকুন। আল্লাহর কাছে চাইতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ শেষ হাসিটা আপনি হাসবেন। এজন্য নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং সময় নষ্ট না করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। তার মতে, যারা নিজেদের মাঝারি মানের শিক্ষার্থী মনে করেন, তাদের জন্য শুধু একটি নয়, একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন : ঢাবিতে কীভাবে অনার্স ভর্তি বন্ধ করা যায়, ভাবতে হবে
তিনি বলেন, ‘একজন চাকরিপ্রত্যাশীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি চাকরি। সেটি ১৬ বা ১৭তম গ্রেডের হোক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হোক, এনটিআরসিএর হোক, ব্যাংকের হোক কিংবা বিসিএসের সৎভাবে অর্জিত যেকোনো চাকরিই সম্মানের।‘ আগে প্রয়োজন একটি চাকরি, এরপর ভালো চাকরির চেষ্টা করা যেতে পারে। মানুষের কথায় মন খারাপ না করে নিজের লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।