২৮ জুন ২০২৬, ২২:৪০

তিন ভাইবোনই বিসিএস ক্যাডার, উত্তীর্ণ ইতি বললেন— ‘ক্যাডার হওয়াই ছিল একমাত্র লক্ষ্য’

রাশেদা খাতুন ইতি  © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত

৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ৯২ জনের মধ্যে ৪৫তম স্থান অর্জন করেছেন রাশেদা খাতুন ইতি। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নীবাজার ইউনিয়নে বাড়ি রাশেদার। জন্ম শেরপুরে হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বর্তমানে তিনি নিজ জেলা শেরপুরেই অবস্থান করছেন। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তাদের পরিবারের তিন ভাইবোনই বিসিএস ক্যাডার।

রাশেদা খাতুন ইতি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ থেকে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন। স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজে।

বিসিএস প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, ৪৬তম বিসিএসে ভালো প্রস্তুতি নিয়েও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে সেই ব্যর্থতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ৪৭তম বিসিএসকে লক্ষ্য করে নতুন করে প্রস্তুতি নেন এবং শেষ পর্যন্ত কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

তিনি জানান, বিসিএসের পুরো প্রস্তুতির সময় তিনি শেরপুরেই ছিলেন। অনলাইনভিত্তিক কোচিং-এ যুক্ত থাকলেও মূলত একাই পড়াশোনা করেছেন। কোনো গ্রুপ স্টাডি করেননি। প্রস্তুতির সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মায়ের অসুস্থতা। তিনি বলেন, কোভিডের আগেই আমার আম্মুর হার্টে ব্লক ধরা পড়ে এবং হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল। আম্মুর যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। এর সঙ্গে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাও ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি বিসিএস ছাড়া অন্য কোথাও আবেদন করিনি। ক্যাডার হওয়াই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য। অন্য কোনো চাকরির প্রতি আগ্রহই তৈরি হয়নি।

সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাশেদা খাতুন ইতি বলেন, আমার পরিবার সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। বিশেষ করে আমার বোনের প্রতি আমি অসীম কৃতজ্ঞ। তার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ছাড়া এই পথচলা এতটা সহজ হতো না।

৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের একজন হয়ে নিজের এই অর্জনকে তিনি পরিবারের দোয়া, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফল বলে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দেশের কৃষি উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।