০১ মার্চ ২০২৬, ২০:৫৫

প্রিলি-লিখিত-মৌখিক পেরিয়েও শূন্য হাতে, বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজপথে তারা

নন-ক্যাডার বঞ্চিত ৪৬তম বিসিএস কৃতকার্য প্রার্থীদের মানববন্ধন  © টিডিসি সম্পাদিত

৪৬তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএসের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও শূন্য হাতে তারা। যদিও আগের এবং পরের বিসিএসগুলোতে এমনটাই দেখা যায়নি। এমন বঞ্চনার ‍শিকার হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন একদল নন-ক্যাডার বঞ্চিত ৪৬তম বিসিএস কৃতকার্য প্রার্থী। আজ রবিবার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করে তারা।

এর আগে তারা সচিবালয়ের ৫ নাম্বার ফটকে মানববন্ধনের চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। মানববন্ধন শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশে প্রতিনিধি প্রেরণ করে এদিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়ারা জানান, যুগপৎ অভূতপূর্ব ও অনভিপ্রেত এ বঞ্চনার নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

জানা যায়, দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর পরিশ্রমে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার তিনটি কঠিন ধাপ সফলভাবে পার করেও চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছেন ৪৬তম বিসিএসের প্রায় আড়াই হাজার মেধাবী পরীক্ষার্থী। সবকটি ধাপ অতিক্রম করার পর কেবল নন-ক্যাডার পদ না থাকায় তাদের শূন্য হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে, যা দেশের বিসিএস ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানান তারা। এই পদ্ধতিগত বৈষম্য নিরসন এবং নন-ক্যাডার পদ সংরক্ষণের দাবিতে আজ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ৪৬তম বিসিএস কৃতকার্য প্রার্থী।

অনিশ্চয়তার মূলে পদ্ধতিগত জটিলতা
২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ৩১৪০টি ক্যাডার পদের উল্লেখ থাকলেও কোনো নন-ক্যাডার পদ রাখা হয়নি। অথচ নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিতেই নন-ক্যাডার পদের বিবরণ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। ক্রান্তিকালীন সময়ে দ্রুত সার্কুলার দিতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদাপত্র (অধিযাচন) না পাওয়ায় পিএসসি এই পদগুলো যুক্ত করতে পারেনি। পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন, রাষ্ট্রের এই অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিগত বিলম্বের দায় কেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা নেবেন? 

নজিরবিহীন বৈষম্যের খতিয়ান
পরীক্ষার্থীরা জানান, ৩৩তম থেকে ৪৫তম বিসিএস পর্যন্ত প্রতিবারই বিপুলসংখ্যক প্রার্থীকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি পরবর্তী ৪৭তম বিসিএসেও নন-ক্যাডার পদ সংরক্ষিত আছে। মাঝখানে শুধুমাত্র ৪৬তম বিসিএসকে বঞ্চিত করা সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত 'সুযোগের সমতা' নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন ৪৬তম বিসিএস কৃতকার্য প্রার্থী।

জানা যায়, সর্বশেষ ৪৫তম বিসিএস থেকে ৫৪৫, ৪৪তম বিসিএস থেকে ২৯৫৮ জন, ৪৩তম বিসিএস থেকে ৬৪২—এভাবে প্রতি বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার পদ থেকে নিয়োগ দেওয়া হলেও ৪৬তম বিসিএস থেকে কোনো নিয়োগ দেয়নি সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি। 

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের দাবি, নতুন নিয়ম চালুর ক্ষেত্রে সৃষ্ট এই ট্রানজিশনাল গ্যাপ বা পদ্ধতিগত বৈষম্য দূর করার জন্য নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধি ৮-এ সরকারকে অসুবিধা দূরীকরণ-এর বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনি রক্ষাকবচ প্রয়োগ করে একটি বিশেষ পরিপত্র বা আদেশের মাধ্যমে ৪৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদ যুক্ত করা সম্পূর্ণ বৈধ ও সম্ভব। সরকারি দপ্তরে পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও, পরীক্ষিত মেধাবীদের বাদ দিয়ে নতুন করে জনবল খোঁজা রাষ্ট্রের সময় ও অর্থের অপচয়।

আন্দোলনরত ৪৬তম বিসিএস কৃতকার্য এক বলেন, বিসিএসের তিনটি ধাপ পার করা মানে আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ও শ্রম এখানে বিনিয়োগ করা। এখন যদি তুচ্ছ প্রশাসনিক অজুহাতে আমাদের নন-ক্যাডার পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে তা হবে আমাদের মেধার প্রতি চরম অবমাননা ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের নজিরবিহীন উদাহরণ। আমরা কোনো করুণা নয়, বরং আমাদের প্রাপ্য অধিকার চাই।