৫ বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটরা চাকরিতে সবচেয়ে বেশি আয় করেন, কম কোনগুলোয়?
বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন হলো কোন বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর করলে ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে গিয়ে বেশি আয় করা যায়? এটি আবার স্নাতক সম্পন্ন করার ৫ বছরের মধ্যেই কোন পেশার মানুষ বেশি আয় করে থাকে? যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ বলছে, স্নাতক শেষের ৫ বছরের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আয় করছেন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সম্পর্কিত বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জনগণনা উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ ডিগ্রি ব্যাচেলরস এবং যারা পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত, তাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার ভিত্তিক বিষয়গুলো আয় তালিকায় সবার ওপরে। এর বিপরীতে, শিক্ষা ও শিল্পকলাভিত্তিক অনেক বিষয়ে আয় তুলনামূলক কম।
২২ থেকে ২৭ বছর বয়সীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয়ের তিনটি বিষয় হলো- কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, এখান থেকে গ্রাজুয়েশন করা শিক্ষার্থীদের বছরে গড় আয় ৯০ হাজার ডলার। এরপর কম্পিউটার সায়েন্স, বছরে গড় আয় ৮৭ হাজার ডলার, তৃতীয়তে রয়েছে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এসব শিক্ষার্থীদের গড় আয় বছরে ৮৫ হাজার ডলার।
অ্যারোস্পেস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংও খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এ তুলনায়, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গড় আয় বছরে প্রায় ৪৫ হাজার ডলার অর্থাৎ প্রযুক্তি ও প্রকৌশলভিত্তিক ডিগ্রিধারীরা ক্যারিয়ারের শুরুতেই জাতীয় গড় আয়ের প্রায় দ্বিগুণ পাচ্ছেন।
কেন এত চাহিদা ইঞ্জিনিয়ারদের?
ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব কলিগস অ্যান্ড এমপ্লয়িস-এর তথ্য অনুযায়ী, গণিতভিত্তিক বিশ্লেষণী দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত পারদর্শিতার কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদা সব খাতেই বেশি। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিগত কাজের ধরন বদলে দিলেও, ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস পূর্বাভাস দিয়েছে- আগামী দশকে অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় কর্মসংস্থান আরও বাড়বে।
মাঝারি ক্যারিয়ারে আয় লাখ ডলার ছাড়িয়ে ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে চিত্র আরও উজ্জ্বল। প্রায় সব ইঞ্জিনিয়ারিং মেজরেই মধ্যম আয় বছরে ১ লাখ ডলার বা তার বেশি।
সবচেয়ে বেশি আয় দেখা গেছে-
১. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং- ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার।
২. কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং- ১ লাখ ৩১ হাজার ডলার।
৩. অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং- ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
৪. ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং- ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার।
৫. কম্পিউটার সায়েন্স ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং- ১ লাখ ২০ হাজার ডলার।
আরও পড়ুন: এনটিআরসিএর প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: আশা দেখছেন যোগ্য-মেধাবীরা, কাটছে না শঙ্কাও
অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, বিজনেস অ্যানালিটিক্স, গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তি–সম্পর্কিত বিষয়ও ১ লাখ ডলারের আশেপাশে আয় করছে।
কোন বিষয়গুলো পিছিয়ে?
এর বিপরীতে, শিক্ষা ও শিল্পকলাভিত্তিক অনেক বিষয়ে আয় তুলনামূলক কম। একই বয়সসীমায় শিক্ষা–সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে মধ্যম আয় ৬০ হাজার ডলারের নিচে অবস্থান করছে।
সংখ্যায় ছোট, প্রভাবে বড়
সবচেয়ে বেশি আয়ের তালিকায় আধিপত্য থাকলেও, ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকদের সংখ্যা মোট ডিগ্রির তুলনায় কম। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস–এর তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রদত্ত ব্যাচেলর ডিগ্রির মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। তবুও বাজারে চাহিদা ও উচ্চ আয়ের কারণে এই বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
উচ্চ বেতন, স্থায়ী চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা সব মিলিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি-সম্পর্কিত মেজরগুলো এখনো ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে লাভজনক পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে আগ্রহ, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য- এই তিনটি বিষয় বিবেচনা করেই শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সূত্র: সিএনবিসি।