এনএসইউতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ফল ২০২৬ গ্র্যাজুয়েট কলক্যুয়াম সিরিজ’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (এসএইচএসএস) উদ্যোগে ফল ২০২৬ গ্র্যাজুয়েট কলক্যুয়াম সিরিজের আরেকটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। প্রাণবন্ত একাডেমিক পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
উপস্থাপকদের মধ্যে ছিলেন ইংরেজি ও আধুনিক ভাষা বিভাগের মো. তাহসিনুল ইসলাম, আইন বিভাগের সাকিবুল হাসিব সাকিব, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (এসআইপিজি) দীপা রানী হালদার এবং ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের (মাহাস) শহিদুল মামুন। মো. তাহসিনুল ইসলাম প্রকৃতির কোলে পুনর্জন্ম: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’তে উত্তর মানবতাবাদী বস্তুগততা ও শোকের বাস্তুতত্ত্ব শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
মো. সাকিবুল হাসিব সাকিব উপস্থাপন করেন, বাংলাদেশে অর্গানিক খাদ্য বিপণন: নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সমালোচনামূলক আইনি বিশ্লেষণ এবং বিশেষায়িত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক প্রবন্ধ। দীপা রানী হালদার উপস্থাপন করেন, বাংলাদেশে ভ্যাট বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর): একটি সমালোচনামূলক মূল্যায়ন এবং শহিদুল মামুন উপস্থাপন করেন অ্যাভিনিউ ও অ্যাসেম্বলি: জিন্নাহ অ্যাভিনিউ (১৯৬০) এবং ‘টুয়েন্টি ইয়ার্স অব পাকিস্তান’ (১৯৬৭) এ উন্নয়ন ও অনুপস্থিত জনগণ শীর্ষক গবেষণাপত্র।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সালেহ মো. শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ইংরেজি ও আধুনিক ভাষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক সালেহীন এস. আহমেদ।
সূচনা বক্তব্যে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও আইন বিভাগের অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক বিস্তারের এই যুগেও মানুষের সমালোচনামূলক চিন্তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্রগুলো এমন সমালোচনামূলক চিন্তাকে প্রতিফলিত করে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
আলোচক ড. সালেহ মো. শাহরিয়ার গবেষণার মানের প্রশংসা করেন এবং উপস্থাপকদের কাজ আরও পরিশীলিত করতে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করেন। তিনি তাদের মূল যুক্তিকে আরও সুসংহত করতে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো অনুসন্ধানের পরামর্শ দেন, এবং গবেষণাপত্রগুলো সুগঠিত এবং যথাযথ সম্পাদনার মাধ্যমে সেগুলো স্বনামধন্য সাময়িকীতে প্রকাশের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
উপস্থাপনায় মো. তাহসিনুল ইসলাম আলোচনা করেন, ‘পথের পাঁচালী’ প্রকৃতিকে নিছক পটভূমি হিসেবে না দেখে মানুষের জীবনকে প্রকৃতি, মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত হিসেবে তুলে ধরে। মো. সাকিবুল হাসিব সাকিব বাংলাদেশে অর্গানিক খাদ্য প্রত্যয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অনুপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং ভোক্তা প্রতারণা প্রতিরোধে বিশেষায়িত বিধিমালার প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি দেন।
দীপা রানী হালদার উল্লেখ করেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য গৃহীত ভ্যাট বিরোধের প্রায় অর্ধেক আইননির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হলেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কার্যগত প্রতিবন্ধকতার কারণে অর্ধেকেরও বেশি মামলা অমীমাংসিত থেকে যায়।
অন্যদিকে, শহিদুল মামুন আলোচনা করেন, আইয়ুব খান আমলে রাষ্ট্র পরিচালিত উন্নয়ন কীভাবে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও স্থাপত্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী থেকে কেবল সুবিধা-গ্রহীতায় পরিণত করেছিল।
গবেষণাপত্র উপস্থাপনার পর একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত শ্রোতারা গবেষণা সম্পর্কিত তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং উপস্থাপকদের অনুসন্ধিৎসু প্রশ্ন করেন। উপস্থাপকদের গবেষণা ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এ ধরনের আয়োজন গবেষণার প্রাণবন্ত সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনুষদের অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রতিফলন।