নর্থ সাউথে ‘ব্যক্তি পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন’ বিষয়ক সনদ কোর্সের উদ্বোধন
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর লিগ্যাল রিসার্চ (এনএসইউ সিএলআর) জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) সহযোগিতায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মুট কোর্ট কক্ষে ‘ব্যক্তি পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন’ বিষয়ক সনদ কোর্সের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও মোকাবিলা এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ’ উদ্যোগের আওতায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আইনশাস্ত্রের শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী এবং ইউএনওডিসির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কার্যকর প্রতিক্রিয়া, আন্তর্জাতিক আইনগত মানদণ্ড এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এরপর বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম। অধ্যাপক আহমেদ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক কাঠামোর উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তি পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান মানবিক মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘন। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়নযোগ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম সীমান্ত অতিক্রমকারী এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক আইনের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিক দিকগুলো বিশ্লেষণ করেন। তিনি অপরাধ দমন ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতার অপরিহার্যতার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সমসাময়িক বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক বৈষম্য এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা কীভাবে বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগের দক্ষতা ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করে, তা তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিথি বক্তা ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (ব্যক্তি পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান) মিস তাসনিম বিনতে করিম এবং ক্রাইম প্রিভেনশন অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিস অফিসার (ব্যক্তি পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান) মি. মাহদি হাসান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ-সংক্রান্ত আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁরা ইউএনওডিসির কার্যপরিধি এবং ‘এডুকেশন ফর জাস্টিস’ (ই৪জে) উদ্যোগের পরিচিতি তুলে ধরেন। বাংলাদেশে ব্যক্তি পাচারবিষয়ক প্রথম জাতীয় গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করে তাঁরা দেখান, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অনিয়মিত অভিবাসন এবং ন্যায়বিচার লাভের সীমিত সুযোগের মতো আর্থসামাজিক কারণ তরুণদের শোষণের ঝুঁকিতে ফেলছে। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, ব্যক্তি পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন; বিশেষত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৫, ৮, ১০ ও ১৬-এর সঙ্গে এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।
২০২৬ সালের বসন্তকালীন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সনদ কোর্সটির দ্বিতীয় পর্যায়কে ১২ সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি হিসেবে সাজানো হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে নিবিড় তিন ঘণ্টার সশরীর সেশন এবং আন্তর্জাতিক অতিথি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সমকালীন অনলাইন বক্তৃতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাত্ত্বিক আইনগত কাঠামোর সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয়ে প্রণীত এই পাঠ্যক্রম অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় ও আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণে অবদান রাখার জন্য প্রস্তুত করে তুলবে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন অধিবেশনের সভাপতি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি আইনশিক্ষার উৎকর্ষ সাধন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড সমুন্নত রাখা এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।