নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (ইআই)’ বা আবেগিক বুদ্ধিমত্তা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়টির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজে (সিপিএস) এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক সৈয়দ মানসুর হাশিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) ১৪ অক্টোবর ২০২৬, “তরুণ পেশাজীবীদের পরিবার, কর্মজীবন ও পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে 'ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (ইআই)' বা আবেগিক বুদ্ধিমত্তা” শীর্ষক একটি বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপিএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য নেছার ইউ. আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন উল্লেখ করেন যে, শান্তি কেবল রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেই নয়, বরং ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের ভেতরেও সূচিত হয়। তিনি আরও বলেন, সে কারণেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মানুষের আচরণ বোঝা এবং দ্বন্দ্ব নিরসনের গুরুত্ব অনুধাবন করা অপরিহার্য।
মূল আলোচক মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান বলেন, জীবনে উন্নতি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে: ১) শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জন, ২) ঈশ্বরপ্রদত্ত আইকিউ (IQ) এবং ৩) নেতৃত্ব ও আবেগীয় সুবিধাসহ পারস্পরিক যোগাযোগের সক্ষমতা (ইন্টারপার্সোনাল স্কিলস)। মজার বিষয় হলো, সফলতার ২০ শতাংশ নির্ভর করে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর, আর বাকি ৮০ শতাংশই নির্ভর করে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মন, হৃদয় ও আত্মার আন্তঃসংযোগের ওপর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একজন ব্যক্তি কীভাবে কোনো পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বিনয়ের সাথে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেন।
এটি একজন নেতার জন্য অত্যাবশ্যকীয় গুণ। তিনি আরও যুক্ত করেন যে, একজন নেতার কাজ হলো আরও নতুন নেতা তৈরি করা, নিছক অনুসারী তৈরি করা নয়। তিনি আরও বলেন, স্বাচ্ছন্দ্য বলয় বা 'কমফোর্ট জোন' হলো ব্যক্তিগত বিকাশের সবচেয়ে বড় শত্রু; পাশাপাশি তিনি আত্মরতিমূলক (নার্সিসিস্টিক) ব্যক্তিত্বের কিছু বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরেন। তার আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার মূল চাবিকাঠি হলো আবেগিক বুদ্ধিমত্তা (ইআই) এবং প্রত্যেকেরই উচিত তাদের বাবা-মায়ের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (টেকনোলজিক্যাল সিংগুলারিটি) এবং মানুষের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার এবং প্রযুক্তি ও মানুষের সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বক্তৃতা শেষে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, তার নিজের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং এই বিষয়ে আরও জানার জন্য ড্যানিয়েল গোলম্যানের বই পড়ার পরামর্শ দেন। এরপর অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন সমাপনী বক্তব্য রাখেন এবং জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সেসব দেশে তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য আবেগিক বুদ্ধিমত্তাকে (ইআই) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশেও অনুসরণ করা উচিত। একটি প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে এই লেকচার সিরিজের সমাপ্তি ঘটে।